জামালগঞ্জে পাঠান বাহিনীর দৌরাত্ম্য বন্ধে মানববন্ধন

জামালগঞ্জ অফিস
জামালগঞ্জে সুরমা নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে বাধা প্রদানসহ দখল, চাঁদাবাজি ও জেলেদের বেধড়ক মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাচনা বাজার ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের পাঠান বাহিনী বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের মফিজনগর গ্রামের প্রত্যাশা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির জেলে ও সমর্থক প্রায় ৫ শতাধিক লোকজন ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধন শেষে তারা পাঠান বাহিনীর দৌরাত্ম্য বন্ধে নূরপুর গ্রামের মেঘা পাঠানের ছেলে লুৎফুর রহমান (৪০), জয়নাল পাঠানের ছেলে আল মামুন (৩৫), গোলাবর সিকদারের ছেলে রাজু মিয়া (৩০), রজত পাঠানের ছেলে তোফাজ্জল মিয়া (২৫), শমরান পাঠানের ছেলে হারুন পাঠান (৪৭) এবং তার ছেলে আলজান মিয়া (২৫), সিতারা পাঠানের ছেলে ফয়সল মিয়া (২০) ও রাজ্জাক পাঠানের ছেলে জিয়াউল হকের (৩০) নাম উল্লেখ করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টায় মফিজনগর গ্রামের প্রত্যাশা সমিতির সদস্যরা সুরমা নদীতে মাছ ধরতে গেলে উল্লেখিত ৮ জন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। মৎস্যজীবীরা চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তারা অজ্ঞাত আরও লোকজন নিয়ে লাঠিসোটা হাতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় জাহাঙ্গীর আলম, সফর আলী, জামির হোসেন ও মুর্শিদ মিয়া নামে ৪ জন মারাত্মক আহত হয়। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এছাড়া অভিযুক্তরা রাজাকারের বংশধর বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মফিজনগরের মৎস্যজীবী লোকজন এই উগ্র দাঙ্গাবাজদের কবল থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ বলেন, ‘তাদের স্মারকলিপি পেয়েছি। মৎস্যজীবীরা যাতে উন্মুক্ত নদীতে মাছ ধরতে পারে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় কথা বলব।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল বলেন, ‘অভিযোগটি দেখে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’