জামালগঞ্জে বেমানান সেতু/ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সেতুর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হোক

কিছু বছর আগেও হাওরের মাঝখানে কচ্ছপের মতো পিঠ উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বহু সেতু দেখা যেতো। কোনো রাস্তা নেই কিন্তু উঁচু ডিবির মতো দাঁড়িয়ে থাকত সেইসব সেতু। এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসত না এইসব সেতু। সরকারি অর্থ ব্যয় করে অপচয়ের এই দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছিলো আয়ুব খানের তথাকথিত উন্নয়ন দশকে। কোনো ধরনের সমীক্ষা বা পরিকল্পনা ছাড়াই তখন উন্নয়ন কাজের নামে সরকারি অর্থের শ্রাদ্ধ করা হত। উন্নয়ন কাজে এখনও এমন পরিকল্পনাহীনতার ছাপ দেখা যায়। এরকমই একটি খবর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ছাপা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো সড়কের অস্তিত্ব না থাকলেও জামালগঞ্জ উপজেলার ভরতপুর ও হরিহরপুর গ্রামের মাঝখানে আধা কিলোমিটারের ব্যবধানে দুইটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সংলগ্ন মেঠো রাস্তার চাইতে সেতুর উচ্চতা বেশি। হাঁটু ভেঙে সেতুতে উঠতে হয়। ফলে সেতু দুইটিতে সাধারণত কেউই উঠেন না। মূলত এই সেতু দুইটির তেমন কোনো উপযোগিতা নেই বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই জায়গায় দুইটি কালভার্ট হলেই চলতো। তারপরেও সেতু নির্মিত হয়েছে। ভালো কথা। সেতুর সাথে যদি সড়ক নির্মাণের চিন্তাটিও সক্রিয় থাকতো তাহলে বিষয়টি হতো বাস্তবসম্মত। কিন্তু এই জায়গায় সড়ক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, এখানে রাস্তা নির্মাণের ডিপিপি করা আছে। ডিপিপি অনুমোদন হলে সাবমার্জিবল রাস্তা করা হবে। এ প্রেক্ষিতে আমরা এই প্রশ্ন করতে পারি, সেতুর জন্য যখন প্রস্তাব তৈরি করা হয় তখন কেন এখানে রাস্তার ব্যবস্থা রাখা হলো না?
ভরতপুর হতে চানপুর পর্যন্ত উঁচু সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। এছাড়া ভরতপুরের সামনের পিয়াইন নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করার জোরালো দাবি আছে। শুধু পিয়াইন নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জামালগঞ্জের বেহেলি, ভরতপুরসহ অন্তত ২৫/৩০টি গ্রামের মানুষের সুনামগঞ্জের সাথে যোগাযোগ সহজ হয়ে যায়। তাহিরপুরের সাথেও যোগাযোগের অন্যতম বিকল্প একটি সড়কও হয়ে উঠবে এটি। বলা দরকার, পিয়াইন নদীর উভয় পাশে সুপ্রশস্ত সড়ক নির্মিত আছে। এই সেতুটি হলে এই সড়ক সুবিধা ব্যবহারের পথও উন্মুক্ত হত। পিয়াইন নদীর উপর সেতু নির্মাণ ও ভরতপুরÑচানপুর সড়ক নির্মিত হলে আলোচ্য আপাতত প্রয়োজনহীন সেতু দুইটিও জনগণের কাজে লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অভিলক্ষ্য। এই জন্য ইতোমধ্যে সরকার ছোট-বড় বহু কাজ করেছেন। সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতিশীলতা আসে। স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ সুবিধা প্রাপ্তির পথ উন্মোচিত হয়। এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে একই সাথে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। আর মানুষের যোগাযোগ সুবিধার বিষয়টি তো আছেই। সরকারের এই অভিলক্ষ্যের সাথে ভরতপুর-চানপুর সড়ক ও পিয়াইন নদীর উপর সেতু নির্মাণ করার স্থানীয় দাবি সংগতিপূর্ণ। একসময় জামালগঞ্জের এসব স্থানকে দুর্গম বিবেচনা করা হতো। এখন আগের মতো দুর্গম এলাকা বলার অবকাশ নেই। নানাভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা করার ফলে এইসব অঞ্চলের কপাল থেকে দুর্গম অঞ্চলের বদনাম ঘুচেছে। ভরতপুর-চানপুর সড়ক নির্মাণ করা বড় কোনো কাজ নয়। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলেই এই সড়ক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাই বহু অর্থ খরচ করে নির্মিত সেতু দুইটির কার্যকারিতা অব্যাহত রাখতে দ্রুত স্থানীয় দাবির আলোকে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে আমরা আশা রাখি। তাহলে আর সেতু দুইটিকে হাওরের মাঝখানে বেঢপ ও বেমানান লাগবে না।