জামালগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহে লাভবান মধ্যস্বত্বভোগী

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার ব্যবসায় নেমেছে প্রভাবশালী সি-িকেট। কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা নিচ্ছে ওই চক্রটি। এতে করে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ উপজেলার প্রকৃত কৃষকগণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লটারির মাধ্যমে সবকিছু নির্ধারণ হয়েছে। এতে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনৈতিক সুবিধাভোগীরা জমি চাষাবাদ করেন না এমন অসংখ্য মানুষের নাম কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছে। কৃষি কার্ডও করেছে। ধান বিক্রির তালিকায় আছে এদের অনেকের নাম। এ কারণে সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার সামর্থ্য রাখে এমন কৃষকের নাম লটারিতে ওঠেনি। এছাড়া জমি করা সত্বেও অনেকের কৃষিকার্ডই নেওয়া হয়নি। আবার কারও নাম নিলেও তা কৌশলে ছাঁটাই করা হয়েছে। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
১৭ মে সাচনা বাজার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁনপুর গ্রামের কৃষক মানিক রঞ্জন তালুকদার ইউএনও বরাবরে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি তাতে উল্লেখ করেন, আমি প্রায় ১৮ কেদার জমিতে ২১৬ মণ ধান পেয়েছি। এই ধান বিক্রয়ের জন্য কৃষিকার্ড জমা দিলে কৃষি অফিসের প্রাথমিক তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই আমার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমন অন্যায় উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি করেন ওই কৃষক।
অপরদিকে, বেহেলী ইউনিয়নের ১০০ ও ১০১ নম্বর ক্রমিকে চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার ও তার সহোদর সসীম তালুকদারের নাম রয়েছে। এছাড়া লটারিপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিজ গ্রাম মদনাকান্দিসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই তার আত্মীয়স্বজন কিংবা ঘনিষ্ঠজন। এদের নামে সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন চেয়ারম্যান নিজেই এমন অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, চেয়ারম্যানের সাথে যাদের সুসম্পর্ক নেই তাদের নাম ওঠেনি লটারিতে। মদনাকান্দি গ্রামের বড় কৃষক দেবাশীষ তালুকদার তাদের অন্যতম।
দেবাশিষ তালুকদার জানিয়েছেন, ‘লটারিতে যাদের নাম এসেছে তাদের অধিকাংশই চেয়ারম্যানের লোক। এই চার গ্রামের মধ্যে যদি কোন বড় কৃষক থাকে তার মধ্যে আমি একজন। কিন্তু গতবারও ধান দিতে পারি নাই, এইবারও আমিসহ আমরা তিন ভাইয়ের কোন নামই ওেেঠনি। লটারিতে যাদের নাম এসেছে, তারা কেউই ধান দিবে না। তাদের নামে ফায়দা লুটবেন চেয়ারম্যান নিজে। গত বছরও এমনটা হয়েছিল।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
জামালগঞ্জের হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ‘যারা ধান দিতে পারবে, সেই কৃষকদের কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহ করা হয়নি। যাদের ধান দেয়ার ক্ষমতা নাই, তাদের কার্ডই নেওয়া হয়েছে। এবং তারাই লটারিপ্রাপ্ত হয়েছে। কিন্তু যারা ধান দিতে পারবে তাদের নাম নেই। এর মাঝখানে একটা শক্ত সি-িকেট কাজ করছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল হক জানিয়েছেন, লটারিতে কার নাম ওঠেছে, আর কার নাম ওঠে নাই সেটা তো বলতে পারব না। লটারিতেই সব নির্ধারণ হয়েছে। এতে কারও হাত নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি বিশ্বজিত দেব বলেন, যাচাই বাছাই কমিটির মাধ্যমে যেখানে আপত্তি ছিল, সেটা বাদ দিয়ে আমরা উন্মুক্তভাবে লটারি করেছি।
প্রসঙ্গত, কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে অর্থাৎ ১০৪০ টাকা মণ দরে সুনামগঞ্জ জেলা ৩২ হাজার ৬৬৪ টন ধান ক্রয় করবে সরকার। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।