জামালগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল-প্রাথমিকভাবে হত্যা, লুট ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
১৯৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে জামালগঞ্জের দক্ষিণ কামলাবাজ, কাজীরগাঁও এবং কালীপুরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, খুন, ধর্ষণ এবং লুটপাটে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূর হোসেনের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের তদন্তদল দিনভর কাজ করেছে ওই এলাকায়। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এই তদন্তকারী দল।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে পাক হায়েনা ও তাদের সহযোগী স্থানীয় বাঙালি দালালরা যে কয়েকটি বর্বরোাচিত হত্যাযজ্ঞ সুনামগঞ্জ জেলায় সংঘটিত করেছিল, এর মধ্যে জামালগঞ্জের এই গ্রামগুলোর হত্যা, ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট উল্লেখযোগ্য ছিল।
তদন্তদল কাজীরগাঁওয়ের সাফিজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।
গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জব্বার মিয়ার ছেলেসহ ৭ টি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত দলের সদস্যরা। এরপর কালীপুরে গিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নাগর আলী’র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার ও তাদের দালালগণ কর্তৃক নির্যাতিত নারীসহ যাদের বাড়িঘর লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত দলের সদস্যরা। শেষে কাজীরগাঁওয়ে শহীদ ৬ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি নূর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবারই জামালগঞ্জে প্রথম তদন্ত কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই এলাকায় হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আরও তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদান করা হবে।
প্রসঙ্গত. গত বছরের ১২ এপ্রিল উপজেলার সদরকান্দির শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গণি মুন্সির ছেলে আব্দুল জলিল বাদী হয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের সামসুল আলম ঝুনু মিয়া, একই গ্রামের মজনু মিয়া ও এনাম উদ্দিনসহ ১৫-২০ জনকে বিবাদী করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি এই তিনটি গ্রামে সংঘটিত অপরাধের জন্য আসামীদের দায়ী করেন।