জামালগঞ্জে সেতুর কাজ না হওয়ায় দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ উপজেলার জামালগঞ্জ-লক্ষীপুর সড়কে একটি সেতুর কাজ গত আটমাস ধরে বন্ধ থাকায় ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ। সড়কের কারেন্টের বাজার এলাকার ওই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিলো গত মার্চ মাসে। কিন্তু কিছুদিন পরই আবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে যাতায়াতাকারী তিনটি ইউনিয়নের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জামালগঞ্জ সদর থেকে ওই সড়ক দিয়ে উপজেলার ফেনারবাঁক ও ভীমখালি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে দিরাই উপজেলা রফিনগর ইউনিয়নের কিছু গ্রামের মানুষও এদিকে যাতায়াত করেন জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে। জামালগঞ্জ থেকে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষীপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। সড়কের ভীমখালি ইউনিয়নের কারেন্টের    বাজার এলাকার পাকা সেতুটি ঝুঁিকপূর্ণ হওয়ায় এ বছরের প্রথম দিকে ভেঙে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন সেতুর কাজ শুরু হয় মার্চ মাসে। কিন্তু কিছুদিন কাজ করার পর বৃষ্টি শুরু হলে আবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঝুঁকিপূণ সেতু দিয়ে তারা অটোরিকশা কিংবা ইজিবাইকে সরাসরি যাতায়াত করতে পারতেন। সেতু ভাঙার পর একপাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে বেশি। এখন উপজেলা সদর থেকে প্রথমে কারেন্টের বাজার যেতে হয়। পরে ভাঙা সেতুর ওপার থেকে আবার অটোরিকশা কিংবা অন্য কোনো বাহনে মালামাল নিয়ে যেতে হয়।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষীপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল মোহাইমিন বলেন, সদর থেকে মালামাল আনতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কারেন্টের বাজারে এসে মাল নামিয়ে আবার এপারে এনে পরে আবার নতুন করে অটোরিকশা কিংবা ইজিবাইকে মালামাল পরিবহন করতে হয়। এতে খরচও পড়ে বেশি।
লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম রানা বলেন, সেতু ভাঙার পর থেকে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কাজ বন্ধ না করলে কম সময়ে কাজ শেষ হয়ে যেত। বাঁশের সাঁেকাটিও ভাঙাচোরা। নারী-শিশুদের পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। সেতুর কাজ আবার কবে শুরু এবং শেষ হবে সেটিও আমরা জানি না।
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালকুদার জানান, তাঁর ইউনিয়নে ৪২টি গ্রাম আছে। এসব গ্রামের মানুষজনের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। এর বাইরে আরও দুটি ইউনিয়নের লোকজন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। পুরাতন সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হলেও লোকজন চলাচল করতে পারত। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ না হলে মানুষের ভোগান্তি থেকেই যাবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, সেতুটি খুই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই সেটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত মার্চ মাসে কাজ শুরু হওয়ার পর বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পানির জন্য কাজ করা যাচ্ছে না। পানি কমলে আবার কাজ শুরু হবে।