জামালগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রজব আলীর বিরুদ্ধে মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে আদায় করা পরিষদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। মঙ্গলবার এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরিষদের ১১ জন সদস্য।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জামালগঞ্জ উপজেলার জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের ২১ মে থেকে। এরপর মানুষের কাছ থেকে আদায় করা ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য খাতে আদায় করা টাকার বেশিরভাগ ব্যাংকে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান রজব আলী আত্মসাৎ করেছেন। এর সঙ্গে ইউপি সচিবও জড়িত। ইউনিয়নের এটি খেয়াঘাটের ইজারা থেকে প্রাপ্ত টাকার হিসাবও মিলছেন না। এ ছাড়া মানুষের কাছ থেকে আদায় করা ট্যাক্স নিয়ে নানা লুকোচুরি রয়েছে। মানুষের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করা হয় বেশি, সে অনুযায়ী তাদের রসিদ দেওয়া হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত রসিদে টাকার পরিমাণ কম লেখা হয়। চেয়ারম্যানের কাছে হিসাব চেয়েও বিগত দুই বছরের পরিষদের কোনো হিসাব মিলেনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত দুই বছরে নানাভাবে পরিষদের ২০ লাখ ১৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে। কিন্তু এখন ব্যাংকে জমা আছে মাত্র এক লাখ ৩২ হাজার টাকা। খরচের কোনো হিসাব নেই। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল আহমেদ বলেন,‘দুই বছরের মধ্যে আমরা কোনো হিসাব পাইনি। আমাদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। জনগণের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় হয় বেশি, জমা হয় কম। নানাভাবে পরিষদের তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তদন্ত করলে সেটা প্রকাশ পাবে।’
তবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রজব আলী। তিনি জানান, পরিষদের সচিব চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর হিসাব মতে ব্যাংকে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা থাকার কথা। কিন্তু টাকা আছে এক লাখ ২১ হাজার। বাকি টাকা কেন জমা দেওয়া হয়নি তিনি দেশে আসার পর সেটা জানা যাবে।
রজব আলী বলেন,‘ঈদে ইউপি সদস্যরা বোনাস চেয়েছিলেন। সেটি দেওয়া যায়নি। আমিও নিইনি। এ কারণে সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই অভিযোগ করেছেন। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।’