জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পরীক্ষা আগ্রাসনে পড়ে ফলাফল নিম্নগামী

বিশেষ প্রতিনিধি
ভাটি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদানের সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টির ফলাফল ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। বছরে এই বিদ্যালয়ে এখন মাত্র ৮১ দিন পাঠদান হয়ে থাকে।
ডিগ্রী, এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র এই বিদ্যালয়ে হওয়ায় বিপাকে পড়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি, এই বিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হবে শুনে আরও বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
১৯৮১ সালে জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয়। বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থাৎ জেলে, কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান।
এই সময়কালে ভাটি অঞ্চলের এই প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষা-সংস্কৃতি খেলাধুলাসহ নানা ক্ষেত্রে জেলার ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি বিদ্যাপীঠের একটি হিসাবে স্থান করে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই বিদ্যালয়ে ১০০ শিক্ষার্থীর আধুনিক আবাসিক সুবিধা সম্পন্ন ৫ তলা ছাত্রী হোস্টেলের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এসএসসি, জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় এবং সকল সরকারি ছুটি বাদ দিলে ১৩০ দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে ডিগ্রী পরীক্ষারও কেন্দ্র হওয়ায় পাঠদান করা যাচ্ছে না আরও ৩৯ দিন। অর্থাৎ বছরে এখন এই বিদ্যালয়ে পাঠদান হয় ৮১ দিন।
এই অবস্থায় গত ১০ বছরের মধ্যে ২০১৮ ইংরেজির এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের পাসের হার ছিল কম। মাত্র ৬১ শতাংশ। একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পায়নি। বিদ্যালয়ের এই অবস্থায় চিন্তিত ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, ‘পাঠদান সংকটের বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হতে থাকবে।’
তাঁর মতে এলাকার বেশিরভাগ অভিভাবক দরিদ্র, বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়মিত না হলে বাড়ীতে পড়াশোনা করে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানার পর সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা অন্য কোন ব্যবস্থা করতে পারছেন না। পরে আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলেছি স্কুলের একটি অংশে পাঠদান হবে। অন্য অংশে পরীক্ষা চলবে। লেখাপড়ায় যাতে বিঘœ না ঘটে, সেটি সকলকেই খেয়াল রাখতে হবে।’