জামায়াতের কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জানতে চান ড. কামাল

সু.খবর ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীর কারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন, সেটি জানতে চান গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের করণীয় বিষয়ে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে মতবিনিময়ের পর এক প্রশ্নে এ কথা বলেন আলোচিত এই রাজনীতিক।
বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বহীন ড. কামাল হোসেন ও তার দল গণফোরাম এবং সম্প্রতি আলোচিত হয়ে উঠেছেন বিএনপির জাতীয় ঐক্য গড়ার চেষ্টার কারণে। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার দলকেও কাছে টানতে চায় বিএনপি। তবে কামাল হোসেন শর্ত দিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী যে জোটে আছে, সেখানে তিনি যাবেন না।
এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের আলোচনা অনেকদূর এগিয়ে গেছে। আবার বুধবার রাজধানীতে বিএনপির এক কর্মসূচিতে জামায়াতের প্রতিনিধি এসে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা বিএনপির পাশে আছেন, থাকবেন।
ফলে কামাল হোসেনকে জোটে নিতে বিএনপি তার দেড় যুগের মিত্র জামায়াতকে বাদ দেবে ক- না, এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন এই দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ভারী অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন আক্রন্ত দেশবাসীর পক্ষে না দাড়িয়ে আক্রমণকারীর পাশে দাঁড়ায় জামায়াত। সেসময় রেডিওতে দেয়া এক ভাষণে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এরপর ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে নিয়ে গোলাম আযম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খানের সঙ্গে পরামর্শ করেন। বুদ্ধি দেন বাঙালি নিধনের। আর জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয় রাজাকার বাহিনী। এই দলের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ গড়ে তোলে খুনি বাহিনী আলবদর, যারা জড়িত ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যায়।
পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার দায়ে মুক্তিযুদ্ধের পর নিষিদ্ধ করা হয় জামায়াতকে। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। পাকিস্তানি পাসপোর্টে দেশে আসার সুযোগ পান গোলাম আযম, ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশ ছাড়েননি। পরে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নাগরিকত্বও পান।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপি আসনভিত্তিক সমঝোতা গড়ে তোলে। আর ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হয় দুই দল। ২০০১ সালে এই জোট ক্ষমতায় আসার পর আলবদর বাহিনীর দুই নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ হন মন্ত্রী।
এর মধ্যে আজ কামাল হোসেন সুপ্রিমকোর্টে মত বিনিময় সভায় অংশ নেন বিএনপিন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে। মতবিনিময় শেষে গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছে প্রশ্ন রাখেন জামায়াত নিয়েই।
আগামী নির্বাচনকে ঘিরে যে সর্বদলীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে সেখানে জামায়াত থাকছে কি-না এমন প্রশ্নে কামাল বলেন, ‘না’। তাদের নেওয়া হবে না। এক কথায় উত্তর ‘না’।
‘আমরা স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছিলাম। তারা (জামায়াত ইসলামীর সমর্থকরা) অন্য চিন্তা করেছে। তারা স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করেছেন। দল হিসেবে করেছে তারা। এটা তো বলা যায় না যে ব্যক্তি হিসেবে করেছেন।’
‘জামায়াত নিয়ে আমি যতদূর জানি… ওই দল থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কারা ছিলেন তা জানতে পারলে আমাদের কাজে লাগবে’- বলেন ড. কামাল।
কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আলোচনা শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন গণফোরাম নেতাকে নিয়ে।
বলেছেন, তিনি কখনও ভোটে জিততে পারেন না। আর যতবার তিনি গরম বক্তব্য দেন, ততবার ব্যাগ গোছানো থাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘২০০৭-৮ এ আমরা যে মামলা করেছিলাম তাতে ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভুয়া ভোটার বাতিল করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন করা হয়েছিল। সর্বোপরি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে যখন আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান থেকে সরালাম তখন আমাদের চারজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীর মামলা হলো। এরপর ২০১০ সালে সে মামলা থেকে আমরা মুক্ত হলাম। তখন তো আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাইনি।’
‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ২০০৭ সালে ২৩ টি শর্ত দিয়েছিলেন। ওই শর্তগুলো এখনও প্রযোজ্য হতো যদি তিনি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকতেন। বিরোধী দলে থেকে যখন শর্তগুলো সমর্থন করেছিলেন, আশা করি সরকারে থেকেও তিনি সমর্থন করবেন।’
সংবিধানের আরও কিছু সংশোধনী করা দরকার উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘এই সংশোধনের লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন করাও যেতে পারে। সরকার গঠন করতে পারে আর সরকার না পারলে আমরা কমিশন গঠন করতে পারি।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনা ও সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র : ঢাকাটাইমস