জামায়াত-বিএনপি’র মনোনয়ন দ্বন্দ্ব

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ- ৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনের প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামীর জেলা নেতারা বলেছেন,‘এবার জেলার ৫ টি আসনের একটি আসনকে টার্গেট করেই দলীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন তারা।’ অন্যদিকে বিএনপির উপজেলা নেতারা বলেছেন,‘সুনামগঞ্জ-৫ আসনের তিন বারের এমপি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের আসন এটি। এই আসন কোন শরিক দলকে দেবার প্রশ্নই ওঠে না, আর জামায়াতের সঙ্গে জোট হবে কি-না এটিও এখনও পরিস্কার হয়নি।’
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দুটি উপজেলায়ই বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামির প্রার্থীগণ। ঐ নির্বাচনের পর এই আসনকে টার্গেট করে এগুচ্ছে জামায়াত। সংগঠনের সিলেট মহানগর কমিটির মজলিসে শুরার সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানীকে এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে তাঁরা।
সুনামগঞ্জ জেলা জামায়েতের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জের একটি আসন (ছাতক – দোয়ারা) সংগঠনের টার্গেট। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এই আসনে জোটের মনোনয়ন চাওয়া হবে। জোটগতভাবে নির্বাচন না হলেও এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঐ নেতা জানান, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই আসনের ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কর্মকান্ড নানা কৌশলে বাড়ানোর। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে । সমাজসেবামূলক কাজে জামায়াত মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীকে যুক্ত রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতা কর্মীদের।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মমতাজুল হাসান আবেদ বললেন, ‘ছাতক – দোয়ারা আসনকে ঘিরেই জেলায় জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই আসনে জামায়াত নেতা আব্দুস সালাম আল মাদানীকে দল বা জোটের প্রার্থী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
প্রসঙ্গত. ছাতক- দোয়ারা আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ৩ জন। এরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জেলা সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, ছাতকের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী ও দলীয় নেতা শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসেফ আলী।
দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল হক নমু বললেন,‘দল হিসাবে জামায়াতের নিবন্ধনই নেই। ছাতক- দোয়ারাবাজারে জামায়াত শক্তিশালী এটাও ঠিক নয়। দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদে একবার জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির ভোটে। সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের হাঁক-ডাকে যা মনে হয়েছিল, ভোটের পড়ে হিসাব-নিকাশে সেই অবস্থা দেখা যায়নি। ছাতক- দোয়ারায় বিএনপি অত্যন্ত শক্তিশালী। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এই আসনে তিন বার এমপি হয়েছেন। তিনিই এখানে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।’
মনোনয়ন প্রত্যাশী মিজানুর রহমান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বললেন,‘জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াত থাকবে কি-না এটাও জানি না। বিএনপি দলীয় চেয়ারপার্সনকে মুক্ত করার আন্দোলনে আছে, নেত্রীকে মুক্ত করে নির্বাচনে যাবে দল, তখনই সিদ্ধান্ত হবে কে কোথায় প্রার্থী হচ্ছে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, ‘ছাতক- দোয়ারা আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন। এই আসনে তাঁদের একজনই মনোনয়ন পাবেন। তবে জোটের যে কোন শরিক দলই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তা বিবেচনা করবেন।’