জারুলিয়া জলমহালে ট্রিপল মার্ডার ১৪ আসামীকে অব্যাহতি অভিযুক্ত ৩৫ জন

বিন্দু তালুকদার
দিরাইয়ের বহুল আলোচিত কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া (ঘোড়ামারা সাতপাকিয়া জলমহালে ট্রিপল মার্ডারের (তিন খুন) ঘটনার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি পুলিশ। (দিরাই থানার অভিযোগপত্র নং-৫২, তারিখ:০৪/০৪/২০১৮ ইং)। বৃহস্পতিবার আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন।
গত ৪ এপ্রিল আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (দিরাই জোন) এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির। অভিযোগপত্রে ১৪ জন আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ এবং ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দিরাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, হাতিয়া গ্রামের আমির হোসেন, কুলঞ্জ গ্রামের এমাদ মিয়া, টংগর গ্রামের মোস্তফা মিয়া, আনহার মিয়া, সানোয়ার মিয়া, মৃত নৌশাদ মিয়া (মামলার পরে মৃত্যুবরন করেন), কুলঞ্জ গ্রামের অভি চৌধুরী, হাতিয়া গ্রামের এনামুল হক লিলু, দিরাই পৌরসভার মেয়ার মোশারফ মিয়ার দুই ছেলে উজ্জ্বল মিয়া ও তসবির মিয়া এবং চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক যুগান্তরের দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান লিটনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জন্য সুপারশি করা হয়েছে।
নানা তদন্তে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হাতিয়া গ্রামের আহাদ মিয়া, কুলঞ্জ গ্রামের মাসুক মিয়া, সুহেল মিয়া চৌধুরী, সয়ফুল মিয়া, রাড়ইল গ্রামের কাদির মিয়া, তহুর মিয়া, টংগর
গ্রামের কাউসার মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, হাতিয়া গ্রামের আশিক মিয়া, কাউছার, কুলঞ্জ গ্রামের এহিয়া চৌধুরী, হাতিয়া গ্রামের লেবাস মিয়া, আমজাদ হোসেন, আবিদ মিয়া, তেতৈয়া গ্রামের সাদির মিয়া, রাজু মিয়া, আকিলনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন, সুড়িয়ারপাড়ের সাদ্দাম, রাড়ইল গ্রামের সিজিল মিয়া, জারুলিয়া গ্রামের কালাম মিয়া, হাতিয়া গ্রামের আলকু মিয়া, টংগর গ্রামের ইয়াকুব আলী, লিটন, রিপন মিয়া, হাতিয়া গ্রামের আলী আকবর, জগন্নাথপুর থানার সজনশ্রী গ্রামের শাহীনুর রহমান শাহীন ও জয়নগর কুচাই গ্রামের সালেহ আহমদ মুন্না, দিরাইয়ের কুলঞ্জ গ্রামের রুস্তম, টংগরের আলামিন, রামপুরের সানুর চৌধুরী সানুর মিয়া, টংগরের রাসেল, রাড়ইল গ্রামের তুহিন চৌধুরী, রসুলপুর গ্রামের আলফু মিয়া, আকিলশাহ্ গ্রামের আলিম, কুলঞ্জ গ্রামের জেবুল অরফে জেবুকে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী হাতিয়া গ্রামের একরার হোসেন স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান সমর্থিত একজন সক্রিয় কর্মী। জলমহালে নিহত হাতিয়া গ্রামের মৃত সান উল্লাহ’র ছেলে তাজুল ইসলাম, মৃত আমান উল্লাহ’র ছেলে উজ্জ্বল মিয়া ও ইছহাক মিয়ার ছেলে শাহারুল মিয়া তার নিয়োজিত জলমহাল পাহাড়াদার ছিলেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দিরাই উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়াকে রাজনৈতিক কারণে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। ঘটনার সময় মোশরাফ মিয়া দিরাই পৌরসভায় একটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন। তদন্তে বিরোধীয় জলমহালে তার জড়িত থাকা ও অর্থ লগ্নির কোন কাগজপত্র পাওয়া যায় নি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের সমর্থক হওয়ায় বাদী একরার হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল। এসব কারণে তাকে মামলার এক নম্বর আসামী করা হয় এবং খুনের ঘটনার নেতৃত্বদানকারী ও প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের শেষের দিকের আসামী করা হয়। প্রদীপ রায়কে একই কারণে দুই নম্বর আসামী করা হয়। ঘটনার দিন ও সময়ে তিনি প্রয়াত জাতীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাথে দেখা করতে সংসদে অবস্থান করছিলেন। জলমহালে তার জড়িত থাকা ও অর্থলগ্নির কোন কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। একইভাবে পূর্বে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা একং প্রদীপ রায় ও মোশারফ মিয়ার ঘনিষ্ট সহচর থাকায় রাজনৈতিক কারণে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানকে আসামী করা হয়। ঘটনার সময় তিনি উপজেলা পরিষদে ছিলেন। ঐ জলমহাল ও ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। মামলার চার নম্বর আসামী কুলঞ্জ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া বিরোধীয় জলমহালে অর্থ লগ্নিকারী ও অলিখিত বিনোয়োগকারী। মামলার বাদী একরারের সাথে একাধিকবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। এই জলমহালের খুনের ঘটনায় তার (আহাদ মিয়ার) নিজের লাইসেন্সকৃত বন্দুক ব্যবহৃত হয়। ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় তার বন্দুক থেকে গুলি করা ও ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত গুলির খোসার মিল পাওয়া গেছে। পাঁচ নম্বর আসামী আমির হোসেন চার নম্বর আসামী আহাদ মিয়ার ছেলে। তার বাবার সাথে বাদী একরার হোসেনের ইউপি নির্বাচন, জলমহাল বিরোধ ও পূর্ব বিরোধের কারণে তাকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে। ঘটনার দিন ও সময়ে তিনি সিলেট শহরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
ছয় নম্বর আসামী মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে জলমহাল ব্যবসায় জড়িত। বিভিন্ন হাওরে গুলিবর্ষণ, জলমহাল জবর দখল চেষ্টাসহ মারামারি ও উত্তেজনাকর ঘটনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করা হয়। সাত নম্বর আগামী এমাদ মিয়া মাসুক মিয়ার ছেলে। তার বাবার সাথে বিরোধের কারণে তাকে আসামী করা হয়। তিনি সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্র। ঘটনার সময় তিনি কলেজে অবস্থান করছিলেন। ৮ নম্বর আসামী সুহেল মিয়া চৌধুরী অংশীদার হিসেবে ওই জলমহালে যাতায়াত করাসহ আসামীদের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ৯ নম্বর আসামী সয়ফুল মিয়া আসামীদের পক্ষে জলমহাল ব্যবসায় জড়িত অন্যতম অর্থলগ্নিকারী। তিনি প্রায়ই জলমহালে আসতেন ও দেখাশুনা করতেন।
১০ নম্বর আসামী কাদির মিয়া ও ১১ নম্বর আসামী তহুর মিয়া মামলার বাদী একরার হোসেনের সাথে পূর্বে জলমহালের ব্যবসায়ীক অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং আসামীদের পক্ষে জলমহাল পরিচালনা ও প্রধান লগ্নিকারীদের একজন। আসামী মোস্তফা মিয়া আরেক আসামী কাউছার ডাকাতের বাবা। তিনি বয়স্ক মানুষ, ঘটনার সময় তিনি নিজের বাড়িতে ছিলেন। আসামী কাউসার মিয়া দিরাই থানার একাধিক ডাকাতি, খুনের মামলার আসামী ও র‌্যাবের শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার সরাসরি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে জলমহালে খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে তার দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও গুলি করার দৃশ্য রয়েছে।
আসামী আনহার মিয়া কাউসারের আপন ভাই। ঘটনার দিন ও আগের দিন তিনি তার বাবার নামে বন্দুকের লাইসেন্স নবায়নের জন্য সুনামগঞ্জ শহরে বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুধুমাত্র কাউসারের আপন ভাই হওয়ায় তাকে আসামী করা হয়েছে। একইভাবে শুধুমাত্র কাউসারের আপন ভাই হওয়ায় সানোয়ার মিয়াকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি নিজের জমিতে কৃষি কাজে ছিলেন। আসামী নৌশাদ মিয়া অন্য আসামী সাদ্দাম ডাকাতের বাবা ও কাউসার ডাকাতের চাচা। তিনি সাদ্দামের বাবা হওয়ায় আসামী করা হয়েছিল। গত ৬ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আসামী সাদ্দাম দিরাই থানার একাধিক ডাকাতি, খুনের মামলার আসামী ও র‌্যাবের শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার সরাসরি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে জলমহালে খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে তার দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও গুলি করার দৃশ্য রয়েছে। তাকে গত বছরের ২৪ অক্টোবর গ্রেফতার করার পর ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিতে মাসুম, আহাদ, শানুর, রাসেল, তুহিন, মুন্না, আলামিন, রিপন, সাদ্দাম, কাউসার, আমজাদ, রাজু, আশিক, হাতিয়ার কাউছার, ইয়াকুব, লিটন, রুস্তমের নাম প্রকাশ করে। আসামী আশিক মিয়া আহাদ মিয়ার ভাই। তিনি ঘটনার সময় আহাদ মিয়ার লাইসেন্সকৃত বন্দুক নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে তার অংশগ্রহণের দৃশ্য রয়েছে।
হাতিয়ার কাউসার ডাকাত কাউসার ও সাদ্দামের ঘনিষ্ট সহযোগি। আলকু মিয়া জলমহালের নিয়মিত পাহাড়াদার ছিল। ঘটনার সময় তিনি স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে আক্রমন ও আঘাত করেন। এহিয়া চৌধুরী ওই জলমহালের অর্থ লগ্নিকারীদের প্রধান একজন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ওই জলমহালের ব্যবসায়ীক অংশিদার। বাবার সাথে বিরোধ থাকার কারণে আসামী করা হয় এহিয়া চৌধুরীর ছেলে অভি চৌধুরীকে। তিনি ঢাকায় চাকুরি করেন এবং ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন। লেবাস মিয়া জলমহালের বিনোয়োগকারী, তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। আমজাদ হোসেন ও আবিদ মিয়া জলমহালের আসামী পক্ষের পাহাড়াদার, ঘটনার সময় তিনি স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে আক্রমণ ও আঘাত করেন। এনামুল হক লিলু সিলেটে ব্যবসা করেন। ঘটনার সময় তিনি সিলেট ছিলেন। আসামী সাদির মিয়া বাদী একরার হোসেনের সাথে পূর্বে বিলের ব্যবসায়ীক অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং আসামীদের পক্ষে জলমহাল পরিচালনা ও প্রধান লগ্নিকারীদের একজন। তিনি জলমহালে প্রায়ই অবস্থান করতেন।
রাজু মিয়া মোটরসাইকেল চালক। তিনি বিরোধীয় জলমহালে আসামীদের নিয়মিত আনা-নেয়া করতেন। ঘটনার দিন আসামীদের পরিবহনে সহায়তা করেন। তাজ উদ্দিন চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলায় জড়িত। ঘটনার দিন উপস্থিত থেকে আক্রমণ ও আঘাত করেন।
উজ্জ্বল মিয়া ও তসবির মিয়া দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়ার ছেলে। তাদের বাবার সাথে বিরোধ থাকার কারণে তাদেরকে আসামী করা হয়।
৩২ নং আসামী কাউছার ও সাদ্দাম ডাকাতের ঘনিষ্ট। তিনি খুনের ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
সিজিল মিয়া একরার হোসেনের সাথে পূর্বে বিলের ব্যবসায়ীক অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং আসামীদের পক্ষে জলমহাল পরিচালনা ও প্রধান লগ্নিকারীদের একজন।
আসামী কালাম মিয়া জলমহালের নিয়মিত পাহাড়াদার। তিনি চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলায় জড়িত। আসামী ইয়াকুব আলী, লিটন মিয়া ও আলী আকবর ওই জলমহালের বিবাদীপক্ষের বেতনভুক্ত পাহাড়াদার ছিলেন। ঘটনার সময় তারা উপস্থিত থেকে প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ ও আঘাত করেন।
আসামী রিপন মিয়া কাউছার ডাকাতের ঘনিষ্ট সহযোগি। খুনের ঘটনায় তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তিনি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। আগামী জিউয়ার রহমান লিটন দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক উত্তরপূর্বের প্রতিনিধি এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। বাদী একরারের বিরুদ্ধে একাধিক রিপোর্ট করার কারণে তাকে আসামী করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের ঘোড়ামারা সাতপাকিয়া (জারুলিয়া) জলমহালে মাছ ধরা ও এর দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি জলমহাল দখল নিয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে হাতিয়া গ্রামের মৃত সান উল্লাহ’র ছেলে তাজুল ইসলাম, মৃত আমান উল্লাহ’র ছেলে উজ্জ্বল মিয়া ও ইছহাক মিয়ার ছেলে শাহারুল মিয়াসহ তিনজন মারা যান। ১১ জনসহ আরও অনেকেই আহত হন। এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি ৩৯ জনকে আসামী করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাতিয়া গ্রামের একরার হোসেন।
মামলার বাদী একরার হোসেন বলেন,‘রাজনৈতিক প্রভাব এবং অনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এই অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে। আমি এই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দেব।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির সাংবাদিকদের বলেছেন,‘আমি তদন্তে যা পেয়েছি, অভিযোগ পত্রে তা উল্লেখ করেছি। কারও মুখের কথায় কিছু আসে যায় না।’
দিরাই থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল বলেন,‘এই মামলা প্রথমে পুলিশ তদন্ত করেছিল। পরে সিআইডিতে স্থানান্তর হয় এবং সিআইডির পরিদর্শক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।’