জালিয়াতি’র মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ জেলহাজতে

স্টাফ রিপোর্টার
জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদপত্র প্রদানের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুর রহমান শহীদকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে আসলে আদালতের বিচারক রাগিব নূর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০১৭ সালের ১৫ মে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান শহীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেছিলেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাসকুড়ি গ্রামের আমিন আল শহীদ চৌধুরী সুমন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালীন নূরুল হক চৌধুরী প্রমুখ ব্যক্তিকে জমিজমা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তিনটি জাল উত্তরাধিকার সনদ প্রদান করেন শহীদুর রহমান শহীদ। তাদের মধ্যে সনদ প্রাপ্ত নূরুল হক চৌধুরী সদনপত্রে স্বাক্ষরের ১৫ বছর পূর্বে অর্থাৎ ২০০২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ওই জাল উত্তরাধিকার সনদ প্রদর্শন করে মধ্য হাসকুড়ি মৌজার ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমি মৃত নূরুল হক চৌধুরী, নূরুল হোসেন চৌধুরী ও নূরুল হাদি চৌধুরী’র নামে নামজারি করা হয়।
এদিকে, প্রবাসী নূরুল হোসেন চৌধুরী শহীদুর রহমান শহীদকে আমমুক্তার নিয়োগ করেন। তার এই জাল-জালিয়াতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন ওই জমির মালিক আমিন আল শহীদ চৌধুরী সুমন প্রমুখ। জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেন তিনি।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে জেলা সিআইডি’র পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার আদালতে জামিন আবেদন করেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুর রহমান শহীদ। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. কামাল উদ্দিন। আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বিপ্লব ভট্টাচার্য।
আসামী পক্ষের আইনজীবী জামিন বক্তব্যে অবশ্য বলেছেন, শহীদুর রহমান শহীদ কেবল নয়, এর আগের দুইজন চেয়ারম্যানও অনুরূপ সনদ দিয়েছিলেন।