জাল নোট বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

জেলা সদরের একেবারে নাকের ডগায় মঙ্গলকাটা বাজারের অবস্থান। সুরমা নদী পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। এই বাজারে জাল টাকা তৈরিকারী জনৈক বরকত আলীকে জাল টাকা ও জাল টাকা ছাপানোর প্রিন্টারসহ আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে এই আটক ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলকাটা বাজারে বরকতের ভাইয়ের একটি কম্পিউটার দোকান রয়েছে। এই দোকানে বসেই সে প্রিন্টার দিয়ে জাল টাকা তৈরি করা শুরু করে। স্থানীয়দের চোখে তার জাল টাকা তৈরির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। তারা বিষয়টি বাজার পরিচালনা কমিটিকে অবগত করে। বাজার কমিটি জানান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে। পরে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ বরকতকে প্রিন্টারসহ আটক করে। আটককালে বরকত পুলিশের কাছে জাল টাকা তৈরির বিষয়টি স্বীকার করে। বরকত জানায় সে ১১ টি জাল নোট তৈরি করেছিল।
বরকতের জাল টাকা তৈরি ও আটকের বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। জাল টাকা আমাদের অর্থনীতির জন্য এক বড় বিষফোড়া। এই জাল টাকার কারণে বহু মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। এমন কি জাল টাকা রাখার অপরাধে তাকে বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়। প্রায়শই বিভিন্ন জনের কাছে জাল টাকা ধরা পড়ে। আইন অনুসারে জাল টাকা যার কাছে পাওয়া যাবে তিনিই দায়ী। তাই অনেকে আইনি জটিলতা এড়াতে জাল টাকার বিষয়টি গোপন রাখেন। সারা দেশে জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহ কাজে বেশ কিছু চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করে থাকে। বরকত ওই চক্রের কোন অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা আবশ্যক। বরকত জাল টাকা তৈরির চিন্তা ও কৌশল কীভাবে শিখল পুলিশের তাও জানা আবশ্যক। সে কতদিন ধরে এই অপকর্মে নিয়োজিত এবং কী পরিমাণ টাকা সে বাজারে ছেড়েছে সে তথ্যও উদঘাটিত হওয়া জরুরি। ধরা পড়ার সময় সে ১১টি জাল নোট তৈরির কথা স্বীকার করলেও এটি বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। বরকতকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জেলায় জাল টাকা তৈরি কিংবা বিতরণে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সেটি জানা যাবে। সুতরাং বরকতের বিষয়টিকে গভীর তদন্তাধীনে নেওয়ার জন্য আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।
মঙ্গলকাটা সীমান্তবর্তী এলাকা। সুনামগঞ্জের একটি বিস্তৃত অঞ্চল সীমান্তবেষ্টিত। ধারণা করা হয় দেশে জাল টাকার যে সরবরাহ তার পিছনে সীমান্তের ওপাড়ের সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দাব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলে জাল টাকার কোন চক্র সক্রিয় কিনা তা অনুসন্ধানসহ সক্রিয় থাকলে তা নির্মূল করার  ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মোট কথা জাল টাকার ভয়াল বিস্তার থেকে যেকোনভাবে জেলার অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাকে মুক্ত রাখতে হবে। মনে রাখা দরকার জাল টাকা গছানোর টার্গেট হয়ে থাকেন সাধারণ ও নিরিহ শ্রেণির মানুষ। কারণ এরা আসল ও জাল নোটের পার্থক্য বুঝতে অক্ষম। আসল ও জাল নোট শনাক্তকরণের যে প্রচার প্রচারণা সেটি এখনও গ্রাম পর্যায়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেনি। সুতরাং গ্রামাঞ্চলের নিরিহ সাধারণ মানুষ সহজেই এমন প্রতারণার শিকার হয়ে পড়েন। দেশের সাধারণ মানুষকে ভয়াবহ প্রতারণার হাত থেকে মুক্ত রাখতে জালনোট তৈরিকারী বরকতসহ এই ধরনের অপরাধ সম্পর্কে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি আমাদের একান্ত কাম্য।