জাহিদ আবার হেঁটে স্কুলে যেতে চায়- চিকিৎসায় সহায়তার আহবান

স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিদিন ছয় কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া-আসা করত জাহিদ হাসান। মেধাবী ছাত্র জাহিদ এখন হাঁটতে পারে না। যেতে পারে না স্কুলে। ঘরে হুইল চেয়ারে বসেই কাটে তার দিন। গত তিন বছর ধরে এ অবস্থা তার। কোমরের নিচের অংশে কোনো চেতনা নেই। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন সে ,‘ট্রান্সভার্স মাইলোট্রিজ উইথ স্পাইনাল শক’ রোগে আক্রান্ত।
সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জাহিদ। বাড়ি সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে। বাবা জাকির হোসেন দরিদ্র কৃষক। ছেলের চিকিৎসায় জমিজিরাত, ঘরের গরু সব বিক্রি করেছেন। এখন অসহায়। টাকার অভাবে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ।  অথচ দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা করলে জাহিদ আবার হেঁটেই স্কুলে যেতে পারবেÑএমন সম্ভাবনা আছে।
জাহিদের মা মোছা. খুশবুল বেগম জানান, ২০১৫ সালের মে মাসে একদিন জাহিদের জ্বর হয়। পুরো শরীরে শুরু হয় প্রচন্ড ব্যথা। সে আর দাঁড়াতে পারে না। অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাকে নেওয়া হয় জেলা সদর এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্ত অবস্থার অবনতি হতেই থাকে। এরপর চিকিৎসা হয় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে। এক মাস পর চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন ভারতের চেন্নাইয়ের খ্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে। দরিদ্র বাবা-মা তখন জমি, গরু বিক্রি করেন। সুনামগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা দেন। ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের ওই হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে যান তারা। সেখানে প্রায় তিনমাস চিকিৎসা চলে। অস্ত্রোপচার হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হয়। কথা ছিল ছয়মাস পর পর সেখানে নিয়ে যেতে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অর্থাভাবে আর যাওয়া হয়নি। এখন প্রশ্রাবে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। দুই পা শুকিয়ে যাচ্ছে তার।
জাহিদের ছোট ভাই ও বোন স্কুলে পড়ে। তাদের লেখাপড়া আর সংসার চালাতে হিমশম খাচ্ছেন পরিবার। জাহিদের মা খুশবুল বেগম বলেন, হুইল চেয়ারে বসতে পারলেও নিচের অংশে কোনো চেতনা না থাকায় প্রশ্রাব বা পায়খানার বিষয়টি সে বুঝতে পারে না। ছেলেটা দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। টাকার অভাবে ভারতে যেতে পারছি না। মানুষের সাহায্য ছাড়া ছেলের চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে আর সম্ভব না।
জাহিদ জানায়, সে আবার হেঁটে স্কুলে যেতে চায়। পড়াশোনা করে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে চায়।
জাহিদ হাসানের চিকিৎসায় সহায়তা করতে চাইলেÑ মোছা. খুশবুল বেগম, হিসাব নম্বর: ২০৫০২৯৩০২০১৩৯০৯০৫, ইসলামী ব্যাংক, সুনামগঞ্জ শাখা। মোবাইল নম্বর ০১৭১৮-০৪২৯৭৯।



আরো খবর