জায়গাটি যেনো ডেথ জোন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
সড়ক দুর্ঘটনা হরহামেশাই হয় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে। তবে সড়কের পাগলা বাজার থেকে সদরপুর এলাকায় নজিরবিহীনভাবে ঘটে প্রাণঘাতি ঘটনা। মর্মান্তিক মৃত্যু হয় দুর্ঘটনা কবলিত মানুষের!
বুধবারের ট্র্যাজিডির মাত্র ৪ দিন আগে শুক্রবারে বাপ্পু নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ঘটে পাগলা বাজার মাদ্রাসা পেরিয়েই। এই জায়গা যে শুধু এটিই প্রথম দুর্ঘটনা তা কিন্তু নয়, এর আগে একই জায়গা আরো মর্মান্তিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন এক পরিবারের চার ব্যক্তি।
ঘটনাটি ২০০৭ সালের। সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটের দিকে মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিলেন একটি পরিবারের সকলে। এই জায়গায় এসে বাসের সাথে মুখোমুখি ধাক্কায় সকলেই একসাথে মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়রা সেদিন গাড়ি কেটে, এমনকি নিহত ড্রাইভারের পা কেটে লাশ বের করেছিলেন গাড়ি থেকে। এ দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে না ভুলতেই বুধবার মাদ্রাসা পাড়ার সামনে ঘটে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। সদরপুর গ্র্রামে বিয়ে হয়েছিল পাগলা কান্দিগাঁও গ্রামের শামসুন্নাহারের। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। ফেরার সময় দেবর, দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে রিকশা করে ফিরছিলেন। বাঁধ সাধলো সড়ক দুর্ঘটনা। মাদ্রাসা পাড়ার সামনে যেতেই পেছন থেকে বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন নিচে। ঘটনাস্থলেই দেবর আর বড় ছেলের মৃত্যু হয়। কোলের শিশুকে নিয়ে কোনোক্রমে বেঁচে যান তিনি। এ খবর পেয়ে শামসুন্নাহারের শ্বশুরও স্ট্রোক করে মারা গিয়েছিলেন বলে তখন শুনা গিয়েছিল। ঘটনাটি ২০০৮ সালে ঘটে। এই দুই বড় ঘটনার ফাঁকে ছোট ছোট আরো দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে এখানে।
এসব ঘটনার পরে দুর্ঘটনা এড়াতে ২০০৯ সালের দিকে স্থানীয়রা মিলে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন মাদ্রাসা পাড়ায়।
জামিয়া ইসলামিয়া পাগলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন মোহতামিম, বিশিষ্ট বুজুর্গ শায়খুল হাদিস হযরত মাও.আবদুল হান্নান (র.) তখন দোয়া পরিচালনা করেন। শিন্নি বিতরণ হয় এক ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। এরপর খুব একটা দুর্ঘটনা না ঘটলেও বছর দু’এক ধরে এ জায়গায়ই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাণঘাতী ঘটনা।
মাদ্রাসা পাড়া থেকে একটু সুনামগঞ্জের দিকে এগুলেই আস্তমা গ্রামের রাস্তার মুখ। মাদ্রাসা পাড়া থেকে ১ মিনিটের রাস্তা হবে। দুই বছর আগে মাদ্রাসা পাড়ার খোয়াজ আলীর ছেলে বাস চাপায় পিষ্ট হয় এখানে। এর ছ’মাস বা বছর খানেক পরে আস্তমা গ্রামের এক প্রবীণ মুরব্বি রাস্তা পাড় হওয়ার সময় কারের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় আল ফেরদৌস কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এটাই শেষ ঘটনা নয়। চলতি বছরে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শেষ করে বাড়ির খুব কাছেই চলে এসেছিলেন আস্তমা গ্রামের আরেক মুরব্বি। বাড়ির রাস্তায় পা দেওয়ার আগেই রাস্তা পারাপারের সময় তেঁতলে যায় তাঁর শরীর। তাঁর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। এর পরই যদি থেমে যেতো মৃত্যুর মিছিল, তাহলে মানা যেত। থামেনি বরং বেড়েছে। মাদ্রাসার সামনে মোটরসাইকেল আরোহী ও মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় জামালগঞ্জের ছেলে  মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থী এক মোটরসাইকেল আরোহীর। গত বছর কামরূপদলং সড়কের মুখে ধারাবাহিকভাবে দুই মহিলার মৃত্যু হয়।  
স্থানীয়রা সড়ক ও জনপথে বিভাগের কাছে দাবি করেছেন রাস্তার পাশে বেশি করে মাটি ভরাটের জন্য।
অবশ্য আফজল হোসেন নামের মাদ্রাসা পাড়ার আরেক গাড়ি চালক বলেন,‘ অদক্ষ ও কম বয়সী চালকের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এ এলাকার রাস্তাও সরু। রাস্তা আরও বড় করতে হবে। চালকদের সচেতন হতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।’
দেলোয়ার হোসেন বলেন,‘ রাস্তায় জন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাইনবোর্ড আর দুর্ঘটনা এড়াতে স্পিডব্রেকার দিতে হবে। চালকদের সচেতন করতে হবে। রাস্তায় চলাচলে করণীয় ও অকরণীয় মানতে বাধ্য করতে হবে। না মানলে শাস্তির বিধান রাখতে হবে। ’



আরো খবর