জীবন সংগ্রামী জাহেরা বেগমের গল্প

পুলক রাজ
জন্মের পর থেকে আমৃত্যু কেউ সুখে বসবাস করেন আবার কাউকে সারা জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। তাদের জীবনের সংগ্রাম যেন শেষ হয় না। এমনই এক সংগ্রামী নারী জাহেরা বেগম। থাকেন পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায়। আজকাল সবক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও চা বিক্রির কাজে সাধারণত তাদের দেখা যায় না। অভাবের তাড়নায় পৌরসভার সামনে খিলিপানের দোকান দিয়েছেন তিনি। দোকানের আয়েই সংসার চালান তিনি। প্রথমে কিছু লোক তার এ পেশাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। অনেকেই হাসি-ঠাট্টা ও সমালোচনা করতো। আবার কিছু লোক তাকে সহযোগিতাও করেছেন। জাহেরা বেগমের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে ছিল তার বাবার
বাড়ি। বিয়ের পর আসেন পৌর শহরের ষোলঘরে।
জাহেরা বেগমের চার মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে কামনা বেগমের বিয়ে দিয়েছেন ঢাকায়। ছোট মেয়ে সুরমিন বেগম সরকারি রাজগোবিন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ছেলে মো. শাকিল হোসেন টেকনিক্যাল স্কুলে পড়াশুনা করে। ৩য় মেয়ে সুরভী বেগম ঢাকায় বড় বোনের কাছে থাকে।
২য় মেয়ে সুমনা বেগম সুনামগঞ্জ শহর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। কিন্তু সুমনার দুইটা কিডনিতে পানি জমায় তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। ঢাকায় গিয়ে ডাক্তার দেখানোর পর এখন প্রতি সপ্তাহে ৮৯০ টাকার ঔষধ লাগে। মাঝে মাঝে তার হাত পা মুখ ফুলে যায়। টাকার জন্য প্রতিনিয়ত জাহেরা হিমশিম খাচ্ছেন ।
জাহেরা বেগমের স্বামী মো. কামাল হোসেন আগে লেবু বিক্রি করতেন। বর্তমানে কিছুই করেন না। সংসার কি ভাবে চলবে কোন খবরও রাখেন না তিনি। গত ১০ বছর ধরে পৌরসভার সামনে খিলি পান বেচে সংসার চালাচ্ছেন সংগ্রামী রারী জাহেরা বেগম। দোকানে থেকে প্রতিদিন ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন জাহেরা বেগম।
কেমন বেচা কেনা হয় জানতে চাইলে জাহেরা বেগম বলেন, কোনোদিন ভালো বেচাকেনা হয়, কোনোদিন আবার হয় না। ঘর ভাড়া দিতে হয় চার হাজার টাকা। পানের দোকান সামলানো ছাড়াও সংসার চালাতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে ঝাড়– দেন তিনি। এজন্য মাসে ৩০০০ হাজার টাকা পান ।