জুনেই আক্রান্ত ৮২৫ জন, এক মাসে আক্রান্ত বেড়েছে ৫ গুণ

স্টাফ রিপোর্টার
জুন মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮২৫ জন। এরআগে ৪৯ দিনে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৬৫ জন। ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের ৭৯ দিন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯০ জন। সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়ে চলা বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক মাসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৫ গুণ। আর ১ জুলাই করোনা সংক্রমণের ৮০ তম দিনে করোনা শনাক্ত হন আরও ২৫ জন। এরমধ্যে ২য়বার করোনা পজিটিভ হয়েছেন ১ জন। আক্রন্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাই উপজেলার ৪ জন, ছাতক উপজেলার ১ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১ জন, জামালগঞ্জ উপজেলার ১ জন এবং শাল্লা উপজেলার ১ জন। হাজার ছাড়িয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪ জনে।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৬৬ জন, দিরাই উপজেলায় ৪১ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৭১ জন, ছাতক উপজেলায় ২৬২ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৮৯ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায়
৯২ জন, শাল্লা উপজেলায় ৩৭ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬৫ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৩৬ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৯ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৩৭ জন।
করোনা পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রথম একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। প্রথম সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ৪৩ তম দিনে গত ২৫ মে করোনা আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করে। শনাক্ত সংখ্যা পৌঁছায় ১০৭ জনে। ৩১ মে করোনা সংক্রমণের ৪৯ তম দিনে করোনায় আক্রান্ত হন ২১ জন। আক্রান্ত ১৫০ ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় ১৬৫ জনে। ২ জুন করোনা সংক্রমণের ৫১ তম দিনে ৩৯ জন আক্রান্ত নিয়ে ২০০ পার করে শনাক্তের সংখ্যা। ৫ জুন ২৫০ অতিক্রম করে করোনা শনাক্ত। ২৩ জন শনাক্ত নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ২৭০ জনে। ৭ জুন করোনা শনাক্তের ৫৬ তম দিনে ৩৪ জন আক্রান্ত নিয়ে ৩০০ ছাড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। ৯ জুন ২১ জন আক্রান্ত নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫০ জনে। ১০ জুন আক্রান্ত হন ৪৬ জন। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৩৯৬ জনে। ১১ জুন করোনা সংক্রমণের ৬০ তম দিনে ২২ জন আক্রান্ত নিয়ে ৪০০ অতিক্রম করে শনাক্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১৮ জন। ১৩ জুন সংক্রমণের ৬২ তম দিনে ৫০০ অতিক্রম করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা।
১৫ জুন সংক্রমণের ৬৪ তম দিনে আক্রান্ত হন ৭৮ জন। শনাক্ত সংখ্যা পৌঁছায় ৬৪১ জনে। ১৭ জুন সংক্রমণের ৬৬ তম দিনে আক্রান্ত হন ১২ জন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ অতিক্রম করে দাঁড়ায় ৭৭১ জনে। ২২ জুন আক্রান্ত হন ২৮ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে পৌঁছায় ৮২৩ জনে। ২৫ জুন আক্রান্ত হন ১৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯১০ জনে। ২৭ জুন ২৪ জন আক্রান্ত নিয়ে করোনায় শনাক্ত সংখ্যা পৌঁছায় ৯৫১ জনে। ১ জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী ২৬২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছেন ছাতক উপজেলায়। সবচেয়ে কম ১৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ধর্মপাশা উপজেলায়।
বুধবার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ১৭ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ১ জন, আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ৮ জনকে, কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেসন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯১ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৮ জন। মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৬০৬০ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৩৭ জন, আইসোলেসনে গেছেন ৯৯০ জন, কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেসন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২৪৮ জন।
৩০ জুন পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্তে ৮ হাজার ৭৮৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ৮ হাজার ২৮২ জনের নমুনা। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯০ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৫৯ জন। করোনায় আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন। জুন মাসেই মারা গেছেন ৬ জন। এদের মধ্যে ৩ জন ছাতক উপজেলার। এরমধ্যে ১ জুন ছাতক উপজেলার ঔষধ ব্যবসায়ী আব্দুল হক (৫০), ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা পিয়ারা মিয়া (৬৮), ৬ জুন হিরা মিয়া (৬৫) মারা যান। ৭ জুন জামালগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ী পংকজ পাল চৌধুরী (৭২), ২২ জুন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার লালন মিয়া (৩৮) এবং ২৫ জুন তাহিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান (৬৫) মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে পহেলা জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলায় শিক্ষক আরশ আলী (৫৪) মৃত্যু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ ১৮৭৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১৭৩১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২৫৪ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৯২ জন।
দিরাই উপজেলায় ৪৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৩৭ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ১৬।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে ৫৬৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪৪ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৩০ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।
শাল্লা উপজেলায় ৫৫৫ জনের নমুনার মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯৬ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ১৭।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৫৫৪ জনের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৩৭ জনের নমুনা। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ২৭ জন।
তাহিরপুর উপজেলায় ৩৫০ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৩৪ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ০৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ২০ জন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬৮০ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪৬ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৪২ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।
ধর্মপাশা উপজেলায় ৩৭৫ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৩১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ১৮ জন।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৯৯৪ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৬১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৫৪ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।
ছাতক উপজেলায় ১৬২৬ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫৮১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬১ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৯২ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন।
জগন্নাথপুর উপজেলায় ৭৪১ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৮৪ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৫১ জন।
উল্লেখ্য, করোনা চিকিৎসার জন্য জেলার ১২টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ১৩১ টি বেড রয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রয়েছে ১০০টি বেড। এছাড়াও ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা উপজেলায় ৩টি করে বেড এবং সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও আনিছা হেলথ কেয়ারে ২টি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। রয়েছেন ৮৬ জন ডাক্তার ও ২৪৭ জন নার্স। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ১৭ হাজার ১ শত ৩২ টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে। মজুত রয়েছে ১ হাজার ২৮ টি।