জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার
জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও লাইব্রেরি স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণের পর এবার জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
জেলার সকল ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জেলা-উপজেলার সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জেলার সকল উপজেলা সমাসসেবা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ভিক্ষুকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা যাচাই-বাছাই করার পর ভিক্ষুকদের স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসিত করা হবে।
চলতি জুলাই মাসেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষকদের এক দিনের বেতন বাবদ আনুমানিক প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সংগ্রহকৃত সকল অর্থ জেলা প্রশাসনের ভিক্ষুকমুক্তকরণ ফান্ডে জমা করা হবে। জেলা প্রশাসনের এই মহতি উদ্যোগের বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেলা-উপজেলার সকল দপ্তর প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নুরুজ্জামান বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেইসবুকে লিখেছেন,‘মাত্র এ মাসেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী-শিক্ষকদের ১ দিনের বেতন বাবদ আনুমানিক প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা জেলা প্রশাসনের ভিক্ষুকমুক্তকরণ ফান্ডে জমা করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ টাকা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যেই আমরা সকল দপ্তর প্রধানকে অবহিত করেছি। আমাদের সবার একটু সহানুভূতি এই হতভাগা মানুষগুলোর জীবনকে পালটে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা সারা দেশে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণের ভুমিকায় থাকতে চাই।’
তবে ভিক্ষুকমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন খুব কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ, আবার অনেকেই এই কাজে ব্যক্তি উদ্যোগে সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন।
সদর উপজেলার শিক্ষিকা তামান্না আক্তার তমন লিখেছেন,‘সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের প্রশংসনীয় উগ্যোগ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক মিলন বলেছেন,‘ জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এসডিজি ১ম গোল্ড অর্জন করা কঠিন। ভিক্ষুক যারা তাদের বিশাল সংগঠন আছে। তাদের ব্যবহার করে অনেকে কোটিপতি হচ্ছে, ভিক্ষুকরা অনেক জায়গায় বেতনভুক্ত আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে জেলার অনেক জায়গায় ভিক্ষুকদের সাথে কথা বলে জেনেছি তাদের প্রতিদিনের আয় নূন্যতম ২৫-৩০০ টাকা পর্যন্ত আছে। তালিকা করা শুরু করলে ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়ে যায়। তার প্রমাণ আমার নিজ ইউনিয়ন। যাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে, তাদের পরবর্তী ফলোআপ খুব জরুরি হবে। ’
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান নামের একজন লিখেছেন,‘ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তারা অধিক সুবিধা পাবে বলেই বিশ্বাস। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
তানিম মাহমুদ নামের আরেকজন লিখেছেন,‘ আমিও অংশগ্রহণ করতে চাই আপনাদের এই উদ্যোগের সাথে। ’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ ভিক্ষুকরা সমাজেরই অংশ, তাই তাদেরকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতন প্রদান করা হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় ১লাখ ৪১ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিক্ষুকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তালিকা তৈরির পর তাদেরকে পুনর্বাসিত করা হবে।’