জেলাজুড়েই ধান ক্রয়ে ছিল লুকোচুরি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে বোরো মৌসুমের ধান-চাল কেনা শেষ হয়েছে। খাদ্য বিভাগ সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ করেছে। তবে ধান কেনা নিয়ে লুকোচুরি ছিল জেলা জুড়েই। কোথাও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা বললেন, ‘শতভাগ স্বচ্ছ হয়েছে, এটি দাবি করবো না। তবে আমরা শতভাগই স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করেছি। কৃষকরা কারো কাছে কৃষি কার্ড বিক্রি করে দিলে আমাদের কী করার আছে।’
সুনামগঞ্জে এবার বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে, আবাদ হয়েছিল দুই লাখ ২৪ হাজার ৪০ হেক্টর। উৎপাদন হয় ১৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ মে.টন ধান। ১১ উপজেলা ও মধ্যনগর থানা মিলে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৮২৩ মে.টন ধান এবং আতব চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৭৯৮ মে.টন ও সিদ্ধ ১৪ হাজার ১৭৯ মে.টন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষমাত্রা মোতাবেক ধান-চাল কেনা সম্পন্ন হয়েছে।
ধান কেনার সময় নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা কোনো কোনো উপজেলা খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষ গোডাউনের সামনে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে সাঁটিয়েছেন। কোনো কোনো উপজেলা তালিকা টানানো দূরের কথা, উপজেলা ওয়েভসাইটেও তালিকা আপলোড হয় নি। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও তালিকা চেয়ে পান নি। কোথাও কোথাও তালিকা টাঙানোর পরও অনিয়ম হয়েছে। শাল্লা উপজেলা ধান ক্রয় কমিটির সদস্য, প্রেসক্লাব সভাপতি পিসি দাস জানালেন, ধান কেনার জন্য কৃষকদের তালিকা করার পর প্রথম দফায় একজন কৃষক ৩ টন করে ধান দিয়েছেন। পরে নেওয়া হয়েছে কৃষক প্রতি ১ টন। অনেক কৃষকের নাম তালিকায় থাকলেও ধান দিতে পারে নি। আমি উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সদস্য হলেও আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে কেউ কথা বলেন নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী আশিক মিয়া জানান, কোথাও কৃষকদের তালিকা টানাতে দেখি নি। ধান কৃষকদের নামে দেওয়া হয়েছে। টাকাও কৃষকদের হিসাবে গেছে। কিন্তু কৃষকদের কার্ড দিয়ে বেশির ভাগ ধানই দিয়েছে প্রভাবশালীরা। ব্যাংক থেকে কৃষকের চেক দিয়ে টাকাও উঠিয়েছে তারাই।
দোয়ারাবাজার উপজেলার ওই সময়ের খাদ্য পরিদর্শক অলক বৈষ্ণব বলেন, আমরা কৃষকদের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এবং উপজেলা খাদ্য গোদামের সামনে টাঙিয়েছি। কিন্তু কে বা কারা ছিড়ে নিয়ে গেছে। পরে খাদ্য গোদামের অফিসের টেবিলে সব সময় দুই তিন সেট করে রেখেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ধীরাজ নন্দি চৌধুরী জানালেন, কাজের চাপ থাকায় এবং স্টাফ কম থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কৃষক তালিকা টাঙানোর সময় পাই নি।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, সরকারি খাদ্য গোদামে ধান সরবরাহকারী কৃষকদের তালিকা উপজেলা’র ওয়েভসাইটে দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য গোদামে আমার জানামতে টাঙানো হয়েছিল। ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়েছে। ধান কেনার সময় কৃষকদের কাছে থেকেই কেনার চেষ্টা হয়েছে। কৃষকের ব্যাংক হিসাবেই ধান বিক্রির টাকা জমা হয়েছে। কৃষকরা যদি কারো কাছে কৃষি কার্ড বিক্রি করে দেন কিংবা তার (কৃষকের) হিসাবে জমা হওয়া টাকা অন্য কাউকে তুলে দেন, সেক্ষেত্রে আমরা কী করার আছে? আমি মনে করি সকলে মিলে কৃষকদের সচেতন করতে হবে তারা যাতে কৃষি কার্ড বিক্রি করে না ঠকেন।