জেলার চার উপজেলায় হচ্ছে ‘কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার’

বিন্দু তালুকদার
হাওরের রাজধানী বলে খ্যাত সুনামগঞ্জের কৃষকদের প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। কৃষকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
জেলার হাওর অধ্যুষিত তিনটি উপজেলা তিনতলা বিশিষ্ট তিনটি কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জগন্নাথপুর, তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় তিনটি কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণ করা হবে। প্রত্যেক কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা । তবে জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তিন তলা বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এসব কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টারে এক সাথে ৬০ থেকে ৯০ জন কৃষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে জেলার ছাতকে দুইতলা বিশিষ্ট একটি কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলার ২৫ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় চার লাখ কৃষক রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার। কিন্তু হাওরপাড়ের কৃষকদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। কৃষকরা প্রকৃতির উপর নির্ভর করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কৌশল থেকে কৃষি-কাজ করেন ও নানা জাতের ফসল ফলান। এতে করে কৃষকেরা চাষাবাদে সঠিক জমি ও বীজ নির্বাচন করতে পারেন না। যার ফলে তাঁরা কাঙ্খিত ফলন থেকে বঞ্চিত হন। প্রশিক্ষণের অভাবে কৃষকরা ইচ্ছাখুশি চাষাবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই কৃষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলতে কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কৃষক প্রশক্ষিণ সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এসব সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে জগন্নাথপুর, তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় তিনটি কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ এসব কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণ করবে।
ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ডিজিটাল সার্ভে ও মাটি পরীক্ষা করা সম্পন্ন হয়েছে। জগন্নাথপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাহিরপুর উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হবে। আগামী মাসেই এসব অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধর্মপাশার উপজেলার মধ্যনগর থানার চামরদানি ইউনিয়নের সাজদাপুর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক বলেন,‘কৃষকরা অবহেলিত, জমি চাষাবাদে আমাদের কোন ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পেলে আমরা উপকৃত হব। ’
ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন,‘কৃষকরা কম জমিতে কম সময়ে বেশী ফসল উৎপাদন করার চাষাবাদ পদ্ধতিসহ অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবেন এইসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। ’
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ পাল বলেন,‘আমরা ইতোমধ্যে দুইটির দরপত্র আহবান করেছি। খুব শীঘ্রই আরো একটির দরপত্র আহবান করা হবে। আগামী মাসেই অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বশির আহমদ সরকার বলেন,‘ কৃষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষি ও কৃষকবান্ধব বর্তমান সরকার কৃষকদের প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।’