জেলার প্রধান উন্নয়ন চাহিদার নাম হোক রেললাইন সম্প্রসারণ

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, সুনামগঞ্জে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এই নির্বাচনের পরই বিশ্ববিধ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এর বাইরেও জেলায় কৃষি ও ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের কথাও বলেছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, পরবর্তীতে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্প একনেকে পাস হওয়ায় ‘সুনামগঞ্জবাসী’ এর ব্যানারে বৃহস্পতিবার শহরে আয়োজিত আনন্দশোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন। অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন উন্নয়নমুখী এই রাজনীতিক সদাসর্বদা সুনামগঞ্জের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেন। তাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে যেমন জেলায় বৃহৎ কুশিয়ারা সেতু স্থাপিত হচ্ছে তেমনি জেলার সবচাইতে বড় প্রকল্প মেডিক্যাল কলেজও এখন বাস্তবায়নের পথে। এর আগে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জের কোন জনপ্রতিনিধি অতীতে জেলার উন্নয়নে এতোটা মনোযোগী ছিলেন না। জেলার অনেক ডাকসাইটে নেতা ও রাজনীতিক থাকলেও অতীতে এরকম বহুমুখী উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ এ জেলায় কখনও হয়নি। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন। উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য জেলাবাসী চিরকাল তাঁকে স্মরণে রাখবেন।
আমরা এবার জেলার উন্নয়ন কর্মকা-ের একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ চাহিদা তুলে ধরতে চাই। প্রতিমন্ত্রী যদিও বলেছেন, ‘পরবর্তীতে’ মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কথা। এই ‘পরবর্তী’ শব্দটি নিয়েই আমাদের যত কথা। জেলার উন্নয়ন কর্মকা-ের প্রাধিকার করা হলে এই মুহূর্তে সবার উপরে স্থান পাবার কথা রেললাইন সম্প্রসারণ। কারণ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় গণপরিবহন হিসাবে রেললাইনের কোন বিকল্প নেই। সব দেশেই রেললাইনকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। জেলায় যে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে তাতে করে মানুষের বাইরে যাতায়াত অনেক বেশি বেড়ে গেছে। শুধুমাত্র সড়কপথ এই যাতায়াত চাহিদা মিটাতে এখন রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে। এছাড়া সড়কপথে অত্যধিক চাপ পড়ার কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। এখন এমন কোন দিন নেই যেদিন কোন না কোন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে না। বৃহস্পতিবারও জগন্নাথপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে এবং সর্বসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ করতে হলে রেললাইন স্থাপন করা একান্ত অপরিহার্য। বলাবাহুল্য রেললাইন স্থাপনের দাবি জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের। সুতরাং উন্নয়নের স্বাপ্নিক পুরুষ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যখন রেললাইন স্থাপনের কাজটিকে ‘পরবর্তী’র জন্য রেখে দেয়ার কথা বলেন তখন পুরো জেলাবাসী বিমর্ষ হন।
সুনামগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে যারা চিন্তা করেন তাঁদের এখন উচিৎ ঐক্যবদ্ধভাবে জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের দাবিতে উচ্চকিত হওয়া। আমরা জানি সকলে মিলে চাইলে কোন চাওয়াই ব্যর্থ হয় না। সড়ক পথের চাইতে রেললাইন অনেক দিক দিয়ে সাশ্রয়ী। প্রাথমিকভাবে রেলপথ স্থাপনের ব্যয় একটু বেশি মনে হলেও নতুন সড়ক নির্মানের তুলনায় তা অনেক কম। সড়কের চাইতে রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক কম। সড়কের চাইতে রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম। সবচাইতে বড় কথা হলো, রেলপথে জনগণ কম খরচে ভ্রমণ করতে পারেন। যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যয়, ঝুঁকি কম ও জনগণের জন্য স্বস্তিকর, একটি কল্যাণমুখী সরকারের সেই কাজকেই তো অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। সুতরাং এই মুহূর্ত থেকে জেলার প্রধান উন্নয়ন চাহিদার নাম হোক রেললাইন সম্প্রসারণ।