জেলার সবগুলো উপজেলাকে দুর্গম হাওর এলাকা ঘোষণা করা হোক

সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জাতীয় সংসদে দিরাই, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলাকে হাওর উপজেলা হিসাবে অন্তর্ভূক্তির দাবি তুলেছেন বলে ফেসবুক সূত্রে জানা যায়। সকলেই জানেন, ইতোমধ্যে জেলার তিনটি উপজেলা যথা:- ধর্মপাশা, দোয়ারাবাজার ও শাল্লা উপজেলাকে দুর্গম তথা হাওর উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চল ঘোষণার সাথে সরকারি কর্মচারিদের বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধাও যুক্ত হয়। তাই এই তিন উপজেলার বাইরে হাওরের বৃহত্তর জেলা এই সুনামগঞ্জের অপরাপর উপজেলাগুলোর সরকারি কর্মচারি ও অন্যদের মধ্যে বঞ্চনাবোধ জাগ্রত হয়েছে। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় সুনামগঞ্জের কোন উপজেলাকেই হাওর বহির্ভূত বলার অবকাশ নেই। আমরা জানতে পেরেছি, জেলা সদর থেকে সরাসরি কোন সড়ক যোগাযোগ নেই এমন তিনটি উপজেলাকেই দুর্গম বা হাওর উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে। সত্যিই ধর্মপাশা, দোয়ারাবাজার বা শাল্লা উপজেলা সদর পর্যন্ত জেলা শহর থেকে সরাসরি যাতায়াত করার কোন মাধ্যম এখন পর্যন্ত গড়ে উঠেনি। তবে এইসব উপজেলার সাথে সহসাই সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে যাবে, দোয়ারাবাজারের সাথে তো সড়ক যোগাযোগ আছেই (শুধু ফেরি দিয়ে নদী পার হতে হয়)। তখন কি এইসব উপজেলাকে দুর্গম উপজেলার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে?
কোন এলাকা দুর্গম কিনা সেটি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে জেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ থাকাটা একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হতে পারে কিন্তু শুধু নামেমাত্র সড়ক যোগাযোগ থাকায় অন্য উপজেলাগুলোকে সুগম বলার কোন যুক্তি থাকতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হয় না। কারণ সংশ্লিষ্ট উপজেলাটি দুর্গম কিনা তা বিবেচনার ক্ষেত্রে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি উপজেলার অভ্যন্তরে যোগাযোগের ন্যূনতম ব্যবস্থা রয়েছে কিনা সেটি দেখতে হবে গুরুত্ব দিয়ে। বলা বাহুল্য অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে জেলার কোন উপজেলাকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যাবে না। এখনও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। গ্রামের সাথে যোগাযোগ তো পরের কথা। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই জেলার অধিকাংশ জায়গায় নৌকা আর শুকনা মৌসুমে হাঁটা ছাড়া যাতায়াতের কোন বিকল্প থাকে না। এমন অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেই সরকারি কর্মচারিরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিনিয়ত সরকারি কর্মচারিদের উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে হয় দায়িত্ব পালনের জন্য। সুতরাং তারা যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই দুর্গম এলাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অর্জন করে দায়িত্ব পালন করছেন।
কোন এলাকাকে দুর্গম বা বিশেষ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ঘোষণার পর এইসব এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ পড়ে। জেলার প্রতিটি হাওর অধ্যুষিত উপজেলাতেই এমন উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হওয়া জরুরি। সুতরাং শুধু তিনটি উপজেলাকে এমন ক্যাটাগরিতে ফেলার পর অবশিষ্ট উপজেলাগুলো নিজেদের বঞ্চিত ভাববে, এ অবাক করার মতো কোন কিছু নয়। তাই মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, এমপি জাতীয় সংসদে আরও চারটি উপজেলাকে হাওর এলাকার দাবি তুলে একটি সংগত কাজ করেছেন। আমরা মনে করি জেলার ১১ টি উপজেলাই হাওর অধ্যুষিত দুর্গম এলাকা হিসাবে ঘোষণার দাবি রাখে। এজন্য জেলার বিশেষ ভৌগোলিক প্রতিকূল অবস্থা সম্পর্কে সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবহিত করতে হবে। হাওর এলাকা এখনও মানবসম্পদ উন্নয়নের নানা সূচকে দেশের অন্যান্য এলাকার চাইতে পিছিয়ে আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, কর্মসংস্থানের সুযোগ; ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই এই জেলা পিছিয়ে। দেশের মূল ¯্রােতের সমকক্ষ করে হাওর এলাকাকে গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই এই এলাকার উন্নয়ন কর্মকা-ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর এই কারণে হাওর অধ্যুষিত প্রতিটি উপজেলাকে দুর্গম তথা হাওর উপজেলা ঘোষণার জন্য আমরা সরকারের নিকট দাবি জানাই।