জেলার ১৮৮ বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত

আকরাম উদ্দিন
চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩৮ টি প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার ৬ উপজেলার ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে তাহিরপুর উপজেলার ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দোয়ারা বাজার উপজেলার ১০টি, ধর্মপাশা উপজেলার ২টি, জামালগঞ্জ উপজেলার ৪টি, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ১৭টি এবং সদর উপজেলার ৯টি। এগুলোতে পাঠদান স্থগিত হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ১৮৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এইসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সদর উপজেলার ২২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২২টি, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ২৭টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৩টি, ছাতক উপজেলায় ১০টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি, তাহিরপুর উৃপজেলায় ১৯টি এবং ধর্মপাশা উপজেলায় ৫৫ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে।
সদর উপজেলার সদরগড় সরকারী প্রাথািমক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন,‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয়ের আঙিনা তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বারান্দায় ও পানি উঠেছে। গ্রামের সকল রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম ছিল। ’
সদরগড় গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাবক আমিরুল ইসলাম বলেন,‘আমার এক মেয়ে সদরগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। আজ দুইদিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি সে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে যোগাযোগের সকল রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে।’
মল্লিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ পৌর সভার কাউন্সিলর আহমদ নুর বলেন,‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শহরের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের আঙিনা ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে গেছে। শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজে আসতে পারছে না বিদ্যালয়ে।’
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ঢুলপশী গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাবক মো. মজর আলী বলেন,‘আমার ১ মেয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে এবং আরও ১ মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিত পড়ে। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গ্রামের সকল রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।’
ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আহমদ বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৪ টার পর বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী আসতে পারেনি। পাহাড়ি ঢলের পানিতে যোগাযোগের সকল পথ ডুবে গেছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সারা জেলায় ১৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলায় ২৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ৫০টি বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে।