জেলার ৫টি নির্বাচনী আসন- আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ২৭ জন

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ৫ টি আসনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। বর্তমান সাংসদদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এরাও শো-ডাউন গণসংযোগ করছেন। মনোনয়ন তদবিরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্যই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগে আগে মাঠে নেমেছেন তাঁরা। গণসংযোগে নেমেছেন প্রবাসী মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। সব মিলিয়ে ৫ টি আসনে নৌকা চান ২৬ জন দলীয় নেতা।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে গত এক মাস হয় গণসংযোগ বেশি করছেন। এই আসনের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জামালগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নে শুক্রবার গণসংযোগ করেছেন দলের নেতা অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার। গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার গত সপ্তাহে আন্তর্জাতি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তাঁর কর্মীসমর্থকরা। জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় কৃষকলীগের নেতা-কর্মীরা শামীমা শাহরিয়ারের সমর্থনে নিয়মিত উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও মিছিল করেছে। সাবেক যুগ্মসচিব মনোনয়ন প্রত্যাশী বিনয় ভূষণ তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিমও গণসংযোগে আছেন। সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হকের সমর্থকরা তাঁর পক্ষে মাঝেমধ্যে এলাকায় প্রচারণা চালান। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সরকারী দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা সক্রিয় রয়েছেন, গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন (ভিপি ইকবাল), জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন, দলীয় নেতা অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম, কুয়েত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা সায়েদ আলী মাহবুব হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা শামছুল হক সম্প্রতি গণসংযোগে নেমেছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান প্রতি সপ্তাহেই এলাকায় সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। এই আসনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক. দলীয় নেতা আজিজুস সামাদ ডন ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাসেম গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইসলাম আলী শুক্রবার সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবার আকাঙ্খার কথা জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর উত্তর-বিশ্বম্ভর) আসনে জোটের শরিক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আগামী রোববার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে জেলা সদরে সমাবেশেরও আয়োজন করেছেন তিনি। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সদর আসন শরিকদের দেবার পক্ষে নয়। তাঁরা এই আসনে দলীয় প্রার্থী দাবি করছেন। এই আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পিপি ড. খায়রুল কবির রুমেন জোরেশোরে গণসংযোগে নেমেছেন। গত রোববার ব্যারিস্টার ইমন শহরে নৌকার পক্ষে বড় শো-ডাউন করেছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক – দোয়ারা) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক নিয়মিতই এলাকায় সভা, সমাবেশ এবং গণসংযোগ করছেন। এই আসনে এছাড়াও গণসংযোগ করছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আয়ুব করম আলী ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য শামীম আহমদ চৌধুরী।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন বলেন,‘আওয়ামী লীগ বড় দল, নেতাও বেশি, নির্বাচন করার আকাঙ্খা নিয়ে গণসংযোগে নেমেছেন যোগ্যরা। এরমধ্যে দলীয় মনোনয়ন একজনই পাবেন এবং তাঁর পক্ষে সকলকেই কাজ করতে হবে। সুনামগঞ্জ সদর আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন আমাকেই দেওয়া হয়েছিল। জোটের স্বার্থে দলীয় সভানেত্রী’র নির্দেশে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু সদর আসন শরিক দলকে দেওয়ায় আমাদের দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে এই আসনে এবার দলীয় প্রার্থী দেবার দাবি তুলেছেন নেতা-কর্মীরা।’
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেছেন,‘১৯৭৫’এর পর থেকেই দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে আসছি। দলীয় প্রধানই বুঝবেন আমাকে কোথায় রাখবেন। দলীয় মনোনয়ন চাইবো, মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো। না পেলে নৌকার বিরোধিতা করার দুঃসাহস আমার নেই। এবার নৌকার বিরোধিতা করে কেউ রেহাই পাবারও সুযোগ নেই।’