জেলায় অগোছালো বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলায় বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনগুলোর বেহাল অবস্থা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই কোন অঙ্গ সংগঠনেরই। কোন কোন অঙ্গ সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৭-৮ বছর হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নেই।  স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন,‘কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কারাগারে থাকায় এবং স্থানীয়ভাবে পুলিশি হয়রানির কারণে সম্মেলন করা যাচ্ছে না, কাগুজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করলেও অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না।’
জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের জেলা আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৮ বছর হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথমে নুরুল ইসলাম নুরুলকে আহ্বায়ক এবং আমিনুর রশিদ আমিনকে সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক করে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। পরে এই কমিটিতে আরোও ৪ জন যুক্ত করেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা। এই কমিটির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল এখন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। কমিটির ২১ সদস্যের ১৭ জন বিবাহিত। কমিটির বেশিরভাগ দায়িত্বশীলই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ছাত্রদলের একক কর্মসূচিও এখন খুব একটা দেখা যায় না। জেলার ১১ উপজেলায়ও সংগঠনের একই অবস্থা।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বললেন,‘আমি মূল দলের দায়িত্ব পাবার পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি। ছাত্রদলের নতুন কমিটি করে দেবার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছি। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কারাগারে থাকায় নতুন কমিটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক আমিনুর রশিদ আমিন বলেন,‘সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, ছাত্রদের হাতেই নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে হবে। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে এই বিষয়ে অবহিত করেছি।’
যুবদলের বর্তমান  আহ্বায়ক কমিটি ৬ বছরের। ২০১২ সালে আনছার উদ্দিনকে আহ্বায়ক, এটিএম হেলালকে সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক এবং মাহবুব হোসেন জাহিদ (মারা গেছেন), সুহেল আহমদ, ও অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছকে যুগ্মআহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যের জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির অনেকেই এখন নিস্ক্রিয়, যুগ্মআহ্বায়ক মাহবুব হোসেন জাহিদ ২ বছর আগে মারা গেছেন। নতুন কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নেই।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন বললেন,‘সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না পুলিশ। মিছিল-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না, এই অবস্থায় সম্মেলন করা যাচ্ছে না, এ কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটিও করা যাচ্ছে না।’
জেলা যুব দলের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক এটি এম হেলাল বললেন,‘যুব দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়া উচিৎ, কেন্দ্রীয় কমিটি জেলায় জেলায় কমিটি দেওয়া শুরু করেছেন, এই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের কমিটিও হবে। যুব দলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের সময় কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা লিখিতভাবে উল্লেখ করেছিলেন, এই কমিটির আহ্বায়ক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন না, ৩ মাসের জন্য কমিটি দেওয়া হলো, ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে।’
জেলা যুব দলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন বুধবার সন্ধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন,‘সংগঠনের প্রয়োজনে কত কিছুই করেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন কমিটি গঠনের সময় নতুন করে চিন্তা করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা, আন্দোলনে সংগ্রামে যারা মাঠে থাকে, তাঁরাই নেতৃত্বে থাকবে।’
৩ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক দল দিয়ে পার হয়েছে ৪ বছর। কমিটির সদস্য সংখ্যাও বাড়েনি। নতুন কমিটি হয় নি।
২০১৩ সালের শেষ দিকে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল্লা আল নোমানকে আহ্বায়ক, নুরুল ইসলাম সাজু ও এমদাদুল হক শাজাহানকে যুগ্মআহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের কমিটি করে দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দ। যুগ্মআহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সাজু শুরু থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল নোমান বললেন,‘জেল জুলুম হুলিয়া থাকায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এখনো কারাগারে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একসঙ্গে না পাওয়ায় সেটি অনুমোদন করানো যায় নি।’
যুগ্মআহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সাজু বলেন,‘অনেক বাধা সত্বেও জেলার ১৬ টি ইউনিটের ১৩ টিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের অবিতর্কিত কমিটি করেছি, আমি কোথায় থাকি এটি বিষয় নয়, এখন ডিজিটাল যুগ, আমি যেখানেই থাকি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি, আমি পেশাদার রাজনীতিক, রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু করি না, আমার কোন টেন্ডারবাজি বা ইজারাদারী নেই।’
জেলা কৃষক দলের ২ সদস্যের কমিটির মেয়াদ ১৫ বছর হয়েছে। ১৫ বছর আগে আতম মিসবাহ্কে সভাপতি ও আসম খালেদকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কৃষক দলের কমিটি হয়েছিল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও ২ সদস্য দিয়েই চলছে জেলা কৃষক দল।
জেলা কৃষক দলের সভাপতি আতম মিসবাহ্ বললেন,‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায় নি। তবে উপজেলাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে।’