জেলায় কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পেলেন নাটা উপপরিচালক মো.মাহমুদ হাসান

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাস সংকটে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখা, বেশি ফসল উৎপাদন এবং কৃষকদের সহযোগিতা দিতে ৬৪ জেলায় একজন করে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সুনামগঞ্জ জেলায় কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) উপপরিচালক (উদ্যানতত্ত¦) মো. মাহমুদ হাসান। এছাড়াও দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের মধ্যে সিলেট কৃষি অঞ্চলের তদারকি করবেন এনএটিপি ফেজ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মতিউর রহমান।

বঙ্গবন্ধু কৃষি উৎসবে যেসব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তারাই জেলাসমূহের কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

আদেশে বলা হয়, গত ২ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর দফতর-সংস্থার কর্মকর্তাদের ৬৪টি জেলার ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি উৎসব’ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখন করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে তাদের কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হল।

কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দিয়ে কর্মকর্তাদের কর্মপরিধিও নির্ধারণ করে দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে, অধিক ফসল উৎপাদন করতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো জমি যেন পতিত না থাকে সে বিষয়ে কী কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে তা তদারকি করতে হবে এসব কর্মকর্তাদের।

এছাড়া বোরো ধান কাটার অগ্রগতি, কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং শ্রমিকের চাহিদা ও যোগান সম্পর্কিত বিষয়ে নজরদারি করবেন তারা।

এর বাইরে এসব কর্মকর্তাদের আউশে প্রণোদনা, আউশের বীজতলা ও বপন; পারিবারিক সবজি পুষ্টি বাগান স্থাপনের অগ্রগতি; সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে কৃষকের তালিকা প্রণয়নের অগ্রগতি; সবজি, ফল, ফুল ও অনন্য কৃষি পণ্য বিপণনে সহায়তা এবং প্রণোদনার আওতায় চার শতাংশ সুদে সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ গ্রহণে কৃষকদের সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে অন্যান্য কার্যক্রম, সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ, সুপারিশ অথবা এ সংক্রান্ত অন্য বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব ইউনিয়নে ‘কৃষি উৎসব’ করার কথা ছিল।

গত ১৭ মার্চ ৬৪ জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে একযোগে এই উৎসব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় এই কর্মসূচিতেও ভাটা পড়ে।