জেলায় কৃষি বিভাগে অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার
এক কর্মচারী ৭ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একেবারে পদভারে ন্যুব্জ তিনি। তিনি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক ও ক্যাশিয়ার’এর দায়িত্ব (অতিরিক্ত দায়িত্বে) পালন করছেন ২ বছর ধরে। শাল্লা উপজেলারও অফিস সহকারী ও উচ্চমান সহকারীর অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন ১০ বছর ধরে তিনি। ২০ বছর হয় দিরাই উপজেলার অফিস সহকারী ও উচ্চমান সহকারী দায়িত্বে রয়েছেন সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগের এই কর্মচারী। নাম সরাফউদ্দিন মুকুল। বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।
সরাফউদ্দিন মুকুল এ প্রসঙ্গে বলেন,‘উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষকের ১১ পদের মধ্যে ৮ টি পদ শূন্য, অফিস সহকারীর ২৪ টি পদের মধ্যে ১৫ টি শূন্য। প্রধান সহকারীর পদ শূন্য। এই জন্য এতো দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হচ্ছে।’ এতগুলো দায়িত্ব একা পালন করেন কীভাবে? এই প্রশ্নের জবাবে মুকুল বলেন,‘কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু পালন করে যাচ্ছি।’ তার এই দায়িত্ব পালনে বড় কর্তারাও খুশি! অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা সরাফউদ্দিন মুকুলকে নিয়ে নামোল্লেখ করে কিছু না বলতে চাইলেও অনেকেই বললেন,‘উপ-পরিচালক হিসাবে এই অফিসে যেই যোগদান করেন, কয়েকদিন গেলেই সরাফউদ্দিন মুকুল নির্ভর হয়ে পড়েন তিনি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমদ সরকার বলেন,‘আমি সপ্তাহ্ খানেক হয় এসেছি, সরাফউদ্দিন মুকুল অনেক দক্ষ লোক, কর্মচারী সংকট থাকায় তাকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাওরের জেলা অর্থাৎ ফসল উৎপাদনের জেলা সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৪৪০ টি পদের মধ্যে ২৫০ টি-ই শূন্য। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য। অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য, উপজেলা কৃষি অফিসারের দুটি পদ শূন্য, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার ২২ টি পদের ১৮ টি শূন্য, কৃষি প্রকৌশলীর পদ শূন্য, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার পদ শূন্য, উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পদ একটি শূন্য, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ২৬৩ পদের ১৪৮ টি শূন্য, ব্যক্তিগত সহকারীর ২ পদই শূন্য, গুদাম রক্ষকের পদ শূন্য, স্প্রেয়ার ম্যাকানিক (এস এম)’এর ১১ পদের দুটি শূন্য, অফিস সহায়কের ২৪ পদের ১৬ টি শূন্য, নিরাপত্তা প্রহরীর ১২ পদের ৬ টি শূন্য, পরিচ্ছনতাকর্মীর পদ শূন্য এবং গার্ডেনারের ৫০ পদের ২৮ টি শূন্য। এতো শূন্য পদ নিয়ে কৃষি প্রধান এই জেলার কৃষি অফিসগুলো চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমদ সরকার বলেন,‘কৃষি বিভাগের জন্য সুনামগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা অথচ এই জেলায় অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য। এখানে কোন কর্মকর্তাকে পদায়ন করলে যোগদান করার আগে না আসার জন্য তদবির করেন। যোগদান করলে যাবার জন্য তদবির করেন। অন্যদিকে নতুন কর্মচারী নিয়োগও হচ্ছে না অনেক দিন হচ্ছে। এতো শূন্য পদ নিয়ে কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। একজনকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।’