জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮৪

বিন্দু তালুকদার
উন্নয়ন বঞ্চিত হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮৪। জেলার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৩ শিশুর মধ্যে ৪,৩৮৪ শিশু প্রতিবন্ধী। সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় এই তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ।
এত প্রতিবন্ধী শিশুর তথ্যের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বললে সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের আরো নজরদারী, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাল্য বিয়ে ও অপুষ্টির শিকার নারীদের সন্তান জন্ম দেয়া, দারিদ্রতা, কুসংস্কার ও সচতেনতার অভাবসহ নানা কারণে প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎকসরা। দম্পতিদের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশু জন্মের পূর্বে ও জন্মের পরের কারণে প্রতিবন্ধী হতে পারে। জন্মের পূর্বে মায়ের বয়স যদি ১৬ বছরের নিচে ও অথবা ৩০ বছরের উপরে হয়, গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির অভাব, গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের মধ্যে মা কোনরকম কড়া ঔষধ গ্রহণ করে থাকে অথবা কীটনাশক, রাসায়নিক, রশ্মি, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার শঙ্কা থাকে। গর্ভাবস্থায় যদি মায়ের হাম হয়, তাহলে শ্রবণ এবং দৃষ্টি ও মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান হতে পারে। অপরিপক্কতা, প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব এবং মায়ের যদি হৃদরোগ বা ডায়বেটিস থাকে তাহলে শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার আশংকা থাকে। জন্মের পরেও নানা কারণে শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে। আবার জন্মের পরে শিশু দুর্ঘটনার শিকার হলে, মাথায় আঘাত পেলে, উচ্চ মাত্রার জ্বর, বিষক্রিয়া, মস্তিস্কের কিছু সংক্রমণ বা টিউমার বা কোন অসুখের কারণে প্রতিবন্ধী হওয়ার ভয় থাকে।
বিএমএর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল ইসলাম বলেন,‘ শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। বংশানুক্রমিক হতে পারে, রক্তের সম্পর্কের সাথে সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক, গর্ভাবস্থায় মায়েদের পুষ্টির অভাব, ভিটামিনের অভাব, আয়োডিনের অভাবে অনেকের শিশু প্রতিবন্ধী হয়। এসব পরিস্থিতি প্রতিরোধে সবাইকে বেশী করে সচেতন হবে ও রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বৈবাহিক আত্মীয়তা পরিহার করতে হবে। ’
অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর নূর বলেন,‘ প্রকৃতিগত ও জন্মগত কারণে অনেক শিশু প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়। বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধী হতে পারে। তবে বাল্য বিয়ে, গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ সেবন, মায়েদের সঠিক পরিচর্যার অভাব, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসসহ অসুস্থ থাকার কারণে শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার আশংকা থাকে। এর প্রতিরোধ করতে হলে বাল্য বিয়ে ও অধিক সন্তান জন্মদান বন্ধ করতে হবে। সুস্থ শিশু পেতে হলে মাকে যে কোন মূল্যে সুস্থ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে স্বাস্থ্য সচতেন হতে হবে। ’
জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন,‘গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা, মা ও শিশুর পুষ্টির অভাব, সন্তান জন্মদানের সময় অদক্ষ ধাত্রিদের সহায়তা নেয়ার কারণে শিশু প্রতিবন্ধী হয়। তবে মানুষ সচেতন হচ্ছে ও প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমছে। ’
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন,‘ আগে প্রতিবন্ধী শিশুদের তথ্য সংগৃহিত ছিল না। এখন জরীপ করে প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। শিশুদের কার্ড দেয়া হচ্ছে, জেলা সদরে তাদের জন্য পৃথক একটা স্কুলও চালু করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীরা এখন আগের মত অবহেলিত ও উপেক্ষিত নয়। রাষ্ট্রিয়ভাবে তাদেরকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ’