জেলায় ৩৮৬ মন্ডপে চলছে দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে এবার ৩৮৬ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে। এর মধ্যে সার্বজনীন ৩৫১টি এবং ব্যক্তিগতভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩৫টি মন্ডপে। গত বছর জেলায় ৩৩৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। গতবারের চেয়ে এবার জেলায় পূজা মন্ডপ বেড়েছে ৪৮টি। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭টি, ছাতক উপজেলায় ৫টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৭টি, দিরাই উপজেলায় ৮টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৫টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৮টি, শাল্লা উপজেলায় ২টি, তাহিরপুর উপজেলায় ৪টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ১টি এবং মধ্যনগর থানায় ১টি মন্ডপ বেড়েছে। তবে সব উপজেলায় বাড়লেও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২টি এবং দোয়ারাবাজায় উপজেলায় ১টি পূজা মন্ডপে এবার শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
জেলায় সবচেয়ে বেশী ৬০টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে দিরাই উপজেলায়। এর মধ্যে সার্বজনীন ৫৮টি এবং ব্যক্তিগত ২টি। এছাড়াও সদর উপজেলায় ৪৫টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ৪০ ও ব্যক্তিগত ৫টি। তাহিরপুর উপজেলায় ২৯টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ২৬টি ও ব্যক্তিগত ৩টি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৩০টি, সব গুলোই সার্বজনীন পূজা। ধর্মপাশা উপজেলায় ১৬টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ১৫ ও ব্যক্তিগত ১টি। দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৬টি, সবগুলোই সার্বজনীন মন্ডপ। ছাতক উপজেলায় ৩৫টি, সবগুলোই সার্বজনীন মন্ডপ। জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪৮টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ৪৪টি ও ব্যক্তিগত ৪টি। জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩২টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ২৭টি ও ব্যক্তিগত ৫টি। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২১টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ২০টি ও ব্যক্তিগত ১ টি। শাল্লা উপজেলায় ২৬টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ১৬টি এবং ব্যক্তিগত ১০টি। মধ্যনগর থানায় ২৮টি, এর মধ্যে সার্বজনীন ২৪ এবং ব্যক্তিগতভাবে ৪টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ শহরের দুর্গাবাড়ি সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, ‘সাবেক রীতি মেনেই দুর্গা বাড়িতে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে পূজার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু মায়ের চরণে অঞ্জলী প্রদানের অপেক্ষা।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমান কান্তি রায় বলেন, ‘আজ পুলিশ সুপার সহ আমরা বিভিন্ন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ শহরের প্রতিটি মন্ডপের প্রস্তুতি দেখেছি। সকল পূজা মন্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। মন্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনসার এবং পুলিশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সন্ত্রাস ও নাশকতা যাতে না হয় সেজন্য সাদা পোষাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমাদের নাম্বার সম্বলিত ক্যালেন্ডার পূজা পরিচালনা কমিটিকে দেয়া হয়েছে। কোন ধরনের সমস্যা হলে এবং পূজা কমিটি আমাদের জানালে আমরা তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হবো।’
সদর থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ বলেছেন, ‘সুষ্ঠুভাবে পূজা সম্পন্ন করতে আমরা আন্তরিক। পূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে সমন্বিত ভাবে পুলিশ, আনসার, ডিবিপুলিশ, মোবাইল টিম এবং সাদা পোষাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডপে ৫-৬জন করে আনসার ও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’