জেলায় ৪ দিনে ৩ শিশু ধর্ষণের শিকার

স্টাফ রিপোর্টার
জেলায় গত ৪ দিনে ৩ শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে এক শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। অমানবিক এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলেই। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু কিশোররা বেশি চিন্তিত। বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা শনিবার স্কুল মাঠে ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন দাঁড়িয়ে বলেছে,‘শিশুদের উপর এমন বর্বরতায় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত। এসব ঘটনার কঠোর শাস্তি চায় তারা।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ছাতকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির উঠোন থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করেছে চাচা ফয়জুল ইসলাম। ১৭ বছর বয়সি ফয়জুল ইসলাম উপজেলার বৈশারকান্দি বাহাদুরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। শুক্রবার এ ঘটনায় থানায় মামলা হয় এবং শনিবার বিকাল ৪ টায় ধর্ষক ফয়জুলকে আটক করে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে জেলার বিশ্বম্ভরপুরে ৭ বছরের শিশুকন্যা গণধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন শিশুর মা। মামলার আসামীরা হলেন- সুলুকাবাদ ইউনিয়নের আক্তারপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে হাসান আলী একই গ্রামের কাজনী গাইয়ার ছেলে দানা মিয়া ও চালবন গ্রামের মৃত দরবেশ আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন। এরমধ্যে হাসান আলীকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এ ঘটনায় জড়িত অন্য দুই আসামী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। বাঘবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ঐ শিক্ষার্থীকে আশংকাজনক অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১১ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনো (শনিবার পর্যন্ত) যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি।
গত সোমবার তাহিরপুরের এক দরিদ্র শিশুকে ধর্ষণ করে বাড়ির সামনের ধানক্ষেতে ফেলে রাখে ধর্ষক। এই শিশুটিকে ধর্ষণ করে উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের নালেরবন্দ গ্রামের আলীনূর মিয়ার ছেলে ২০ বছর বয়সি নাজু মিয়া।
এর আগে গত ১৮ মার্চ তাহিরপুরে আইসক্রিম খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ৫ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করে এক লম্পট। উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ১৮ বছর বয়সি মুসলিম উদ্দিন এই শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ্ খান বললেন,‘এ ধরনের অমানবিক ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের নানা স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পাড়া-মহল্লা-গ্রামে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের বিষয়ে সংবেদনশীল হতে হবে। মেয়ে বা ছেলে শিশু কাউকে একা কোথাও যেতে না দিলেই ভাল হয়। পুলিশ এই বিষয়ে তৎপর রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’



আরো খবর