জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা- ধোপাজান নিয়ে সরগরম

আকরাম উদ্দিন
জেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভা রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.সফিউল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জে বিজিবি’র সহঅধিনায়ক মেজর মো. আজহারুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, পুলিশ সুপার মো.বরকতুল্লাহ খাঁন, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, পৌর মেয়র নাদের বখত, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারী, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী ফৌজি আরা শাম্মী।
সভায় লাইসেন্সবিহীন আগ্নায়াস্ত্র খোঁজে বের করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করা, গ্রাম আদালতে নির্দিষ্ট সময়ে সালিশ নিষ্পত্তি ও কার্যক্রম সক্রিয় করা, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া, বিদ্যুতের লোডশেডিং কমিয়ে আনা ও বিদ্যুতের পিলার ও তার অগোছালো থাকার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া, মাদক প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, ফাজিলপুর নদী ও ধোপাজান নদীর বালু মহাল নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘সমাজে সৃষ্ট বিভিন্ন অপরাধ কমিয়ে আনতে উপজেলা পর্যায়ে যেসব এনজিও কাজ করেন, তাদের অবশ্যই উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত বিষয়ের কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আব্দুজ জহুর সেতুর বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ৪টি সোলার বিদ্যুৎ দেয়া হবে। এ সময় পৌর মেয়র নাদের বখতও ১টি সোলার বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলেন।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘সদর উপজেলার ধোপাজান চলতি নদীকে কেন্দ্র করে এখানকার জনপদ গড়ে উঠেছে। আবহমানকাল থেকে নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন করে হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এখন ধোপাজান নদীতে শ্রমিকদের বালু-পাথর উত্তোলন বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের দিনমজুর শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে ছাতকের ভোলাগঞ্জে যায়। সেখানে স্থানীয় শ্রমিকরা তাদের কাজ দেয় না। এখন তারা প্রায় বেকার হয়ে পড়েছে। তাহিরপুরের ফাজিলপুর এলাকায় নদীতে বালু উত্তোলন করছে শ্রমিকরা। এটা বন্ধ করা হয়নি। জেলার এক জায়গায় বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে আর এক জায়গায় উত্তোলন অব্যাহত থাকবে, দেশের আইন সবার জন্য সমান। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। প্রশাসনকেও জনগণকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। ’
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘সদরের ধোপাজান নদী ৬ জনকে ইজারা দেয়া হয়েছে। আদালতের মামলার রায়ে ৬জন স্থিতাবস্থায় থাকবে। শ্রমিকদের বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার যে অভিযোগ, এ বিষয়ে আমরা জানি না। ধোপাজান নদীর পুরো এলাকায় বাধা আছে কিনা তা জানি না। ফাজিলপুরের নদী ইজারা নিয়ে যে সমস্যা ছিল তা নিষ্পত্তি হয়েছে। ইজারাদারকে নদী বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। সকলকে সমন্বয় করে উন্নয়নের বিষয়টাও দেখতে হবে। প্রশাসন জনগণকে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়ন চায়।’
সভায় বিজিবি’র সহ-অধিনায়ক মেজর মো. আজহারুল আলম বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের বর্ডারগার্ড চোরাচালান প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। প্রায় সময় চোরাচালানী মাদকদ্রব্য আটক করা হয়। তবে আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে।’
পুলিশ সুপার মো.বরকতুল্লাহ খাঁন বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র খোঁজে বের করে তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যে কোনো জায়গায় অপরাধের খবর পেলেই পুলিশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এখন জেলায় মাদকের ছড়াছড়ি অনেকটা কমেছে। অপরাধও কমে আসছে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. আবু সিদ্দিকুর রহমান, সদর মডেল থানা (ওসি তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. নুরুল মোমেন, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মো.আমিনুল হক, ডিবি ওসি কাজী মোক্তাদির হোসেন, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিগণ আবশ্যক