জেলা তদারকী কমিটির সভা- মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিমের পরিমাপের পর বিল

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় বাঁধ নির্মাণে সর্বশেষ বিল প্রদানের আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ টিম বাঁধের কাজ পরিমাপ করবে। ওই বিশেষ টিমের পরিমাপ করার পর কাজ অনুয়ায়ী বিল প্রদান করা হবে।
রবিবার বিকালে কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সভায় এসব বিষয় জানান, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক জানান, বাঁধ ও ক্লোজার নির্মাণে যে পিআইসি যতটুকু কাজ করেছেন সে পরিমাণ বিল পাবেন। কে কতটুকু কাজ করেছেন বিশেষ টিম পাঠিয়ে তা সঠিকভাবে পরিমাপ করে দেখার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম বাঁধের কাজ দেখবেন ও পরিমাপ করবেন। যেখানে যতটুকু কাজ হওয়ার কথা তারা বলবেন, সেই পরিমাণ বিল প্রদান করা হবে। স্থানীয়ভাবে বিল কম-বেশী করার কোন সুযোগ কেউ পাবেন না। যেসব এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা কমিটিকে এর জবাব দিতে হবে। ’
সভায় জেলা প্রশাসক আরও বলেন,‘ হাওরপাড়ের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঁধের কাজ অন্য বছরের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে বলে হাওরের কৃষকসহ সবাই বলছেন। তবে বোরো ফসল ঘরে তুলার আগ পর্যন্ত বাঁধগুলো রক্ষা করতে হবে। বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিআইসিসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ জুয়েল, পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া, পাউবোর পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্নেন্দু দেব, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, জামালগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সদর উপজেলার পাউবোর শাখা কর্মকর্তা আশরাফুল সিদ্দিকী, জামালগঞ্জের পাউবোর শাখা কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন দাস, দৈনিক আমাদেরসময়ের জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার প্রমুখ।
সভায় পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানান, এখন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পিআইসিদের বাঁধের কাজের বিপরীতে ১৭৭ কোটি টাকার প্রাক্কলনের মধ্যে ১২৪ কোটি টাকা ছাড় করেছে। বাঁধের কাজ দেখে ও পরিমাপ করার পর বাকী টাকা পরিশোধ করা হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ জুয়েল বলেন,‘ কিছু জায়গায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কৃষকসহ এলাকার লোকজনই এসব বাঁধ অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করছেন।’
তবে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ নিয়ে সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ বলেন,‘ বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রস্তাবনা এসেছে। পাশাপাশি কিছু বাঁধের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিল। গত বছর ঠিকাদাররা যেসব বাঁধের কাজ করেন নি সেগুলো এবছর বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ’