জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ/ ভুয়া চুক্তিনামায় জলমহাল ইজারা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় ভুয়া চুক্তিনামা ও তথ্য গোপন করে বারিয়া নদী জলমহাল ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে উপজেলার বারিয়ানদীর পাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. স¤্রাট লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত মঙ্গলবার বালিজুড়ি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে এ জলমহাল ইজারা দেয় উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি।
১৪২৯ বঙ্গাব্দ থেকে পরবর্তী থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য বারিয়ানদী জলমহাল ইজারা নেওয়ার জন্য বারিয়ানদী মৎস্যজীবী সমিতি ও বালিজুড়ি সমবায় সমিতি আবেদন করে। গত ৪ আগস্ট উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুযায়ী এ জলমহালের ব্যাপারে পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তদন্ত শেষে বালিজুড়ি সমিতিকে তীরবর্তী দেখিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, বালিজুড়ি সমিতি তাদের কার্যালয় জলমহালের তীরবর্তী দেখাতে গিয়ে বালিজুড়ি গ্রামের মৃত যোগেশ চন্দ্র দাসের ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসের স্বাক্ষর নকল করে জায়গা ভাড়া নেওয়ার ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে। আর এ কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আব্দুল মোনায়েম খান বালিজুড়ি সমিতির পক্ষে অর্পিত সম্পত্তিতে কার্যালয়ের অবস্থান নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি প্রত্যয়ন দেন। কিন্তু সেই প্রত্যয়নে কি ছিল তা বারিয়ানদীর পাড় সমিতিকে জানানো হয়নি। ফলে বারিয়ানদীর পাড় সমিতির সভাপতি গত ২৮ সেপ্টেম্বর তথ্য অধিকার আইনে তথ্যের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করেছেন। এ দিকে গত মঙ্গলবার নিখিল স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তার স্বাক্ষর জালের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান। আর এটি জানার পরও দ্রুত বালিজুড়ি সমিতিকে জলমহালটি ইজারা দেওয়া হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সার্ভেয়ারের দেওয়া লিখিত প্রত্যয়নের ওপর ভিত্তি করে বালিজুড়ি সমিতির অনুকূলে প্রতিবেদন দিয়েছি।’
সার্ভেয়ার আব্দুল মোনায়েম খান বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক কোনো বক্তব্য না দিয়ে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি এমন প্রত্যয়ন দিতে বাধ্য হয়েছেন। যদি পুনঃ তদন্ত হয় তবে তিনি সঠিক তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও জানান।
অভিযোগকারী স¤্রাট বলেন, ‘এ ব্যাপারে সঠিক তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।’
বালিজুড়ি সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘নিখিলের চুক্তির ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। বাবু (ব্যবসায়ী অংশীদার) নামের একজন আমাকে জানিয়েছে নিখিল কার্যালয়ের জায়গা নিয়ে চুক্তি করেছে।’
সামসুল হুদা বাবু বলেন, ‘চুক্তিতে নিখিল স্বাক্ষর করেছে। নিখিল এখন চুক্তিনামায় স্বাক্ষরের কথা অস্বীকার করছে।’
তবে নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘সমিতির ঘরের (কার্যালয়) জায়গাটি আমার নয়। আমি চুক্তিনামায় স্বাক্ষর দেইনি। বিষয়টি আমি ইউএনও স্যারের সাথে দেখা করে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘সার্ভেয়ারকে সঠিক তথ্য দিতে বলেছিলাম। এখন যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে তাহলে তার দায় সার্ভেয়ারে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখন যারা আপত্তি করছে তারা আপিল করতে পারে। সার্ভেয়ারের কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’