জেলা শহরে নাই সবজির নির্ধারিত হাট

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ শহরে সুনির্দিষ্ট সবজি বাজার নেই বা অল্প সময় বসে সবজি বিক্রির জায়গাও নেই। শহরের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের সামনে সবজি বিক্রি করে মানুষের চাহিদা মিটিয়ে আসছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু এবার তারা অস্থায়ীভাবেও বসার জায়গা পাচ্ছেন না শহরে। তাই প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বল্প পরিমাণে সবজি বেশি মূল্যে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। শহরবাসীর সবজি চাহিদা পুরণ না হওয়ায় নির্দিষ্ট স্থানে সবজি বাজার নির্ধারণের দাবি ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
একাধিক সবজি বিক্রেতা জানান, এবার শীতকালীন সবজির উৎপাদন ভাল হয়েছে। কিন্তু শহরে দোকান সাজিয়ে বিক্রি করার মতো সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। তাই এসব সবজি শহরে না এনে বাইরের জেলায় কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। শহরে বেশি পরিমাণে সবজি নিয়ে আসলে রাস্তার কিনারে বসার সুযোগ নেই। কোনো দোকানের সামনে সবজি নিয়ে বসলে সকাল ১০টার পর উঠে যেতে হয়। এই কারণে অল্প পরিমাণে সবজি নিয়ে আসতে হয় শহরে। এতে সবজির দামও পড়ে বেশি। এছাড়া কোনো কোনো দোকানের সামনে বসলে মালিককে টাকাও দিতে হয়।
একাধিক ক্রেতা জানান, শীতকালীন সবজি বাজারে আসা শুরু হয়েছে। কিন্তু বিক্রেতাদের বসার সুযোগ করে না দিলে কখনও আমাদের সবজি চাহিদা পুরণ হবে না এবং দামও কমবে না।
সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা, কৃষ্ণনগর, ঝরঝরিয়া, কাইয়ারগাঁও, সৈয়দপুর এলাকার এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক, মথুরকান্দি, বাঘবেড়, জিনারপুর সহ বিভিন্ন স্থানের দুই শতাধিক বিক্রেতা শহরে এসে সবজি বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকালে শহরের মধ্যবাজার এলাকা, জগন্নাথবাড়ি, জেলরোড, ষোলঘর পয়েন্ট এলাকায় সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সবজি বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ ভ্রাম্যমানভাবে আবাসিক এলাকায় বাসা-বাড়িতে গিয়ে সবজি বিক্রি করেন। আবার কেউ ঠেলাগাড়ি দিয়ে এই সবজি বিক্রি করেন শহরের বিভিন্ন স্থানে। বিকালে দোজা মার্কেটের সামনে, মুক্তারপাড়া পয়েন্টে, ট্রাফিক পয়েন্টে ও শহীদ মিনারের সামনে চড়া মূল্যে সবজি বিক্রি হয়।
শহরের ষোলঘরের বাসিন্দা ক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,‘সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ষোলঘর পয়েন্টে স্থানীয় সবজি পাওয়া যায়। তবে সবজির দাম অনেকটা বেশি। শহরের সবজি বাজারের সুনির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা না করলে আমাদের চাহিদামত সবজি পাব না। যদিও পাই তবে চড়া মূল্যে কিনে নিতে হবে।’
ওয়েজখালি এলাকার বাসিন্দা ক্রেতা বিশ্বজিৎ দে বিষু বলেন,‘সবজি বিক্রির যদি জায়গা না থাকে, তবে সবজি বেশি পাওয়া যাবে না এবং দামও কমবে না।’
সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নাদের শাহ, নাছির উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন বলেন,‘এবারের সবজির উৎপাদন ভাল হয়েছে। এখন সবজি বাজারে বেশি পরিমাণে আসবে। কিন্তু শহরে বেশি সবজি নিয়ে আসলে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। কম সবজি নিয়ে আসলে খরচ পড়ে বেশি। তাই বেশি মূল্যে সবজি বিক্রি করতে হয় আমাদের। এবার বেশিরভাগ সবজি বাইরের জেলায় বিক্রি শুরু হয়েছে। কারণ শহরে নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসার জায়গা নেই।’
জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের সবজি বিক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন,‘আমি প্রতিদিন শহরে সবজি নিয়ে আসি। গত তিন মাসে ৬টি জায়গায় সবজির দোকান দিয়েছি এবং উঠে এসেছি। এখন আছি মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে। সবজি নিয়ে চিন্তায় আছি, কেউ যদি আবার উঠিয়ে দেয়।’
কৃষ্ণনগর গ্রামের ফজর আলী ও মনোহর আলী বলেন,‘নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বেশি সবজি নিয়ে আসতে পারি নি। বেশি সবজি নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসলে কেউ তোলে দিলে ভোগান্তি হবে বেশি।’
কাইয়ারগাঁও গ্রামের নবী হোসেন ও রফিক মিয়া বলেন,‘আমার দোকান সকাল থেকে ৩ জায়গায় বদল করেছি। এখন এসেছি গুড়ের দোকানের কাছে। সবজি বেচা তো দূরের কথা, দোকান নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকতে হয় আমাদের।’
ঝরঝরিয়া গ্রামের আবুল কালাম ও আব্দুল মতিন বলেন,‘সকালে সবজি নিয়ে এসেছি, যে দোকানের সামনে বসি, সেই দোকান খুলে ফেলে। ৪ জায়গায় বদল করেছি। এখন বসেছি সুরমা মার্কেটের সামনে। সবজি বেশি নিয়ে আসলে বিপদে পড়তাম।’
ভাদেরটেক গ্রামের মকবুল হোসেন ও শহীদ মিয়া বলেন,‘শহরে সবজি নিয়ে সকাল ৭টায় এসেছি। এখন সবজি শেষ। সবজি বেশি আনলে দোকান সাজিয়ে বসে বিক্রি করার জায়গা পাব না।’