জেলা সদরে স্থায়ী সবজি হাট করে দিতে হবে

প্রকৃত অর্থেই সুনামগঞ্জ জেলা শহরে সবজির নির্দিষ্ট কোনো হাট নেই। পৌরসভা যে কিচেন মার্কেট বানিয়েছিল সেখানে সবজির দোকান বসানোর মতো কোনো জায়গা নেই। ফলে সবজি দোকানদারদের বসতে হচ্ছে রাস্তার কিনারে। রাস্তা দখল করে কিংবা রাস্তার কিনারে দোকান বসানো অবৈধ। তাই প্রায়শই স্থানচ্যুত হতে হয় তাদের। পুরোনো জেলাখানা, আলফাত স্কয়ার সংলগ্ন এলাকা, শহীদ মিনারের সামনে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের সামনে গড়ে উঠেছে সবজি দোকানগুলো। স্থায়ী দোকান না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই পসরা সাজাতে হয় দোকানিদের। কখন আবার কে তাদের তোলে দেয় এই আতংক তাড়া করে বেড়ায় তাদের। বাড়তি ঝক্কিও রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এসব ঝক্কির মধ্যে রয়েছে- রাস্তার যে দোকানের সামনে তারা বসেন সেই দোকান খুললে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হয়। আবার অনেকক্ষেত্রে এজন্য টাকাও দিতে হয়। ফলে এসব দোকানে যৎসামান্য সবজি নিয়ে বসেন তারা। ক্রেতারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন সবজি। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত ‘জেলা শহরে নেই সবজির নির্ধারিত হাট’ শিরোনামের সংবাদে শহরের সবজি দোকানিদের এমন দুর্দশার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সবজি ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, এখন শীতকালীন সবজির মৌসুম শুরু হয়েছে। শীতকালীন সবজির উৎপাদনও ভাল হয়েছে জেলার সবজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা হাটের অনিশ্চয়তায় বেশি সবজি বাজারে নিয়ে আসছেন না। জেলায় উৎপাদিত সবজি জেলা শহরের বাজারে না এসে বাইরে পাইকারি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। জেলা শহরের সবজি হাটের এই সংকট দূর করা পৌর কর্তৃপক্ষের আশু কর্তব্য।
পাইকারী ও খুচরো উভয় প্রকারের সবজি ব্যবসার জন্যই সুনির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে। সবজি চাষিরা বিশেষ করে শীতকালীন সবজি উৎপাদনে যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছেন। মূলত সার্বিকভাবে কৃষি ক্ষেত্রে বহুমুখী সফলতার অংশ হিসেবেই একে বিবেচনা করা যায়। উৎপাদিত সবজির উপযুক্ত বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই লোকসান। সবজি উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য হতে বঞ্চিত হন ভীষণভাবে। ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দিতে পারলে সবজি চাষিরা বিশেষভাবে উৎসাহিত হতেন। উৎপাদকরা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে না পারলে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা এর সুযোগ গ্রহণ করে। সবজিও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা দেখেছি উৎপাদক যে মূল্যে সবজি বিক্রি করেন তার চাইতে পাঁচ গুণ বেশি দাম দিয়ে ক্রেতাদের তা কিনতে হয়। মাঝখানে কিছু ফড়িয়া-দালাল বিশাল পরিমাণের অংক হাতিয়ে নেয়। উৎপাদকরা যদি সরাসরি ক্রেতাদের (পাইকারি ও খুচরো) কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেতেন তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমত। উৎপাদক ও ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে দিতে উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনার সুযোগ করে দেয়া সরকারের দায়িত্ব।
শহরের কিচেন মার্কেটটি মূলত অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর বহুমুখী ব্যবহারের যে উদ্দেশ্য ছিল এখন কার্যক্ষেত্রে তার উপযোগিতা হ্রাস পেয়ে পুরো কিচেন মার্কেটটিই কেবল মাছের বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মার্কেটের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ কতোটা উপযোগী তা নিয়ে বিশেষ চিন্তা-ভাবনার কমতি রয়েছে। কিন্তু কিচেন মার্কেটকে ঘিরেই সবজির হাট করে দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শহর জুরে ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী আকারে কিছু সবজির দোকান থাকবে, এটি স্বাভাবিক। প্রতিটি শহরেই এমন আছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা ঠেকানো কিছুটা কঠিনই বটে। তবে একটি কেন্দ্রীয় হাট থাকতেই হবে। সেই স্থায়ী সবজি হাট তৈরি করে দিতে পৌর কর্তৃপক্ষ আশু উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।