জেলা স্টেডিয়ামে কুস্তি খেলা স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার
ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলাকে কেন্দ্র করে কুস্তি সংগঠকদের মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হওয়ায় আপাতত কুস্তি খেলা স্থগিত করা হয়েছে। অবশ্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজকরা বলেছেন, ‘গত তিন দিনের বৃষ্টিতে মাঠে কাদা হওয়ায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ সকল খেলাই পেছানো হয়েছে। ১০-১২ দিন পরে অবশ্যই কুস্তি খেলার আয়োজন হবে।’ এদিকে, কুস্তি খেলা বানচাল ও কুস্তিগীরদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় বন্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে কুস্তি খেলা আয়োজন উপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এই লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগটির অনুলিপি তিনি সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসিকেও দিয়েছেন।
২৯ ও ৩০ অক্টোবর জেলা ক্রীড়া সংস্থা সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে কুস্তি খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য স্পন্সরও খোঁজা হয়। স্পন্সর না পাওয়ায় ৫০ টাকা টোকেনমূল্য দিয়ে স্টেডিয়ামে খেলার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। নামমাত্র টোকেন মূল্য থেকে অংশগ্রহণকারী ৫টি উপজেলা দলকে আয়োজনের জন্য নগদ সহায়তা, খেলোয়াড় ও টিমের জন্য টি-শার্ট, আমিনদের জন্য টি-শার্ট, গামছা, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক, বিজয়ী ও রানারআপ দলের জন্য নগদ সহায়তা ও ক্রেস্ট এবং আমিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়।
এই উদ্যোগের দ্বিমত পোষণ করে ভাটি বাংলা কুস্তি ফেডারেশন নামের কমিটির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেন করেন। আবেদনে তিনি কুস্তি খেলায় টিকেট ব্যবস্থা বন্ধের দাবি জানান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নুরুল্লা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহানুর আলমও টিকেটে কেটে এই খেলা হতে পারে না জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট লিখিত আবেদন করেন।
অন্যদিকে, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে আছে। এই অবস্থায় কুস্তি খেলাসহ মাঠে সকল প্রকার খেলা আগামী এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, মাঠের অবস্থা ভালো হলে ১০-১২ দিন পর অবশ্যই কুস্তি খেলার আয়োজন হবে। আপাতত মাঠে খেলা হবে না।
এদিকে, ‘কুস্তি ফেডারেশন’ নাম দিয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কুস্তিগীর ও অনুরাগীদের জিম্মি করে তিন হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ ও কুস্তি আয়োজক উপ কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নোমান।
আব্দুল্লাহ আল নোমান এই প্রসঙ্গে বললেন, ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলার নামে গ্রামগুলোকে জিম্মি করে চাঁদা তোলার অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। কুস্তিগীরদের দাবির প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার জন্য লিখিত আবেদন করেছি।
ভাটি বাংলা কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি এই প্রসঙ্গে বললেন, চাঁদাবাজি নয়, সকল কুস্তি টিমের যৌথ সভায় খেলা পরিচালনার জন্য তিন হাজার টাকা করে দিয়ে তহবিল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানালেন, আব্দুল্লা আল নোমানের অভিযোগ পেয়েছন তারা। যাচাই করে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।