জোর করে চাঁদা আদায় মাঝিকে মারপিটের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জের রক্তি নদীতে বালু-পাথর পরিবহনকারী নৌকা আটকিয়ে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাহিদামত চাঁদা না দেওয়ায় নৌকার মাঝিকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় রক্তি নদীর দুর্ভলপুর গ্রামের পাশে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। জোর করে চাঁদা আদায় ও মারপিটের সাথে জড়িত চারজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মারধরের শিকার এম.ভি জারিন নৌকার মাঝি আব্দুল আউয়াল। আউয়ালের বাড়ি জামালগঞ্জের মাহমুদপুর গ্রামে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্লভপুর গ্রামের মৃত আলকাছ মিয়ার ছেলে মোকাব্বির মিয়া, রবি মিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদ, সিরাজ মিয়ার ছেলে ফজলুল আলম ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বাগুয়া গ্রামের ফরহাদ মিয়া রক্তি নদীতে বালু—পাথর পরিবহনকারী নৌকা থেকে বালু নিয়ে যাওয়ার সময় ২৫০০—৩০০০ টাকা ও রক্তি নদী দিয়ে ফাজিলপুরে যাওয়ার সময় ১৫০০— ২০০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে। কোন নৌকার মাঝি টাকা না দিলে নৌকা আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকালে রক্তি নদীর দুর্ভলপুর গ্রামের কাছে মোকাব্বিরসহ অভিযুক্তরা বালু নিয়ে যাওয়ার পথে এম.ভি জারিনের গতিরোধ করে এবং ২০০০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এম.ভি জারিনের মাঝি আব্দুল আউয়াল চাঁদা না দিয়ে বিষয়টি মালিকদের মোবাইল ফোনে অবগত করতে চাইলে মাঝি আব্দুল আউয়ালকে মারপিট শুরু করে। চিৎকার শুনে আশপাশে লোকজন মাঝিকে রক্ষা করেন। মারধরের শিকার আব্দুল আউয়াল জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে মোকাব্বির, আব্দুর রশিদ, ফজলুল আলম ও ফরহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
নৌকা আটকিয়ে চাঁদাবাজী ও মারপিটের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মোকাব্বির মিয়া বলেন,‘ আমরা ২ হাজার টাকা কবরে চাঁদা আদায় করি না। মঙ্গলবার রক্তি নদীতে কাউকে মারপিট করিনি। আমরা সুরমা নদীর ঘাটে টোল আদায় করি। নৌকা প্রতি ২০/৫০/১০০ টাকা করে টোল আদায় করি। এমভি জারিনের মাঝি টোল না দিয়ে যেতে চাইলে আমরা মালিকদের কথায় তাদের যাওয়ার সুযোগ দিয়েছি। ’
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ আব্দুন নাসের বলেন,‘ রক্তি নদীতে বালু—পাথর পরিবহনকারী নৌকায় চাঁদা আদায় ও মাঝিকে মারপিট করা হয়েছে বলে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’