জোৎস্না পান

কুমার সৌরভ
মেঘের আকাশে গতরাতে চাঁদ ছিল
ঝঞ্ঝাকাল পেরোনোর পর তিনি হাসলেন,
একটি বৃক্ষলাশ পড়ে আছে রাস্তার বিছানায়
ঝড়াপাতা বৃষ্টিজল কাদামাটি শোকে কাতর
তার অন্তিম শয়নে।
গোলাপী গালের রূপোলী ঠোল মেলে
আকাশ তখন হেসে উঠলেন।

একটি স্বল্পস্থায়ী দুর্ঘটের পর
কেমন ম্লান স্বস্তি এখন।

যদিও বিদ্যুৎহীন শহরের নাগরিকরা
যাচ্ছেতাই রকম বিরক্ত হয়ে আছেন
রিক্সা বা অটো না পেয়ে পথচারীরা
শাপশাপান্ত করতে করতে
সিস্টেমের পিন্ডি চটকাচ্ছেন
ফুটপাতের ঝালমুড়ি পেয়াজু চটপটিওয়ালারা
এই সন্ধ্যায় দোকান খুলতে না পেরে
একদিনের নগদ লোকসান হিসাব করে দেখেন
ট্যাকে সওদার কড়ি নেই।

আমার লাল চা পানের তেষ্টা প্রবল হয়ে ওঠে
কিন্তু কালবোশেখীর পর
একটিও চায়ের দোকানও নেই অলিতে গলিতে
এক বুক তেষ্টা নিয়ে তাই চোখ মেলি আকাশে।

ওখানে এখনও সদাহাসি চাঁদ
জাদুর বাঁশি বাজিয়ে চলেছেন
আমি বৃক্ষলাশের উপর বসে
জোৎস্না পানে মিটাচ্ছি
চায়ের তৃষ্ণা।
৩১.০৩.২০১৮



আরো খবর