ঝুঁকিপূর্ণ তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন জনের মৃত্যু

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের এবং ছাতক উপজেলায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে গতকাল বুধবার সকালের দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার বানেশ্বর গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (৩০) ও খুরশিদ মিয়ার ছেলে হাবিবুল্লাহ (২৫)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার একটি ইটভাটা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে ইট নিয়ে আসেন চার শ্রমিক। বুধবার সকালে ভাটিপাড়া গ্রামে ইট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় গ্রামের পাশের খালে বিদ্যুতের তারে লেগে প্রথমে পানিতে পড়ে যান মামুন মিয়া। এরপর মামুন মিয়াকে উদ্ধার করতে পানিতে ঝাঁপ দেন হাবিবুল্লাহ। হাবিবুল্লাহও বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারা মারা যান।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, খালের ওপর বিদ্যুতের তার নিচু হয়ে আছে। এতে নৌ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। নৌকা গেলে বিদ্যুতের তারে লেগে যায়। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানোর পরও তারা ব্যবস্থা নেয়নি।
নিহতদের সাথে থাকা সুজন মিয়া ওরফে উকিল মিয়া ও বাচ্চু মিয়া বলেন, সকালে আমরা নৌকায় রাখা ইট বিক্রি করতে পূর্ব হাটির খালে নৌকা নিয়ে ঘাটে ভিড়িয়ে কিছু মাল তুলে ফেরার পথে বিদ্যুতের ঝুলন্ত লাইনে নৌকার বৈঠা লেগে গেলে নৌকার সারং মামুন মিয়া পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে হাবিবুল্লাহ পানিতে ঝাঁপ দেয় এবং চিৎকার দিয়ে বলে পানিতেও কারেণ্ট, এরপর সে ডুবে যায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অনেক খোঁজাখুজি করে মৃত অবস্থায় হাবিবুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়। নৌকায় থাকা সুজন মিয়া ও বাচ্চু মিয়া বেঁচে থাকলেও ‘কিছু বলতে পারব না’ বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন ও মাঝে মাঝেই মুর্ছা যাচ্ছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শতশত নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
দিরাই উপজেলা বিদ্যুৎ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী বিপ্লব রায় জানান, তিনি ওই এলাকায় নতুন যোগদান করেছেন। তাঁর কার্যালয়ের লোকজন ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছেন। তিনি তাদের কাছ থেকে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল জানান, পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এদিকে ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাসলিম উদ্দিন (৪) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের ঘিলাছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাসলিম উদ্দিন ঘিলাছড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজাম উদ্দিনের বড় ভাই, ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নূর উদ্দিনের একটি বাংলা ঘরে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম চলছিল। ওই ঘরে ফ্যান না থাকায় ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ করে টেবিল ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। বসত ঘরের স্টীলের দরজার ফাঁক দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টেবিল ফ্যানে সংযোগ দেয়া হলে দরজা বার-বার খোলা ও লাগানোর কারণে তারের প্লাস্টিক অংশ ক্ষয় হয়ে বিদ্যুৎ স্টীলের দরজায় সঞ্চালিত হয়ে পড়ে। এ সময় শিশু তাসলিম দরজায় স্পর্শ করলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।