ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে চিন্তিত কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি
অপরিকল্পিতভাবে শাল্লা উপজেলার তিনটি হাওরে বাঁধ নির্মাণের কারণে দিরাই, শাল্লা ও কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার লাখো কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বরাম হাওর, ভা-া বিল ও ছায়ার হাওরের এই বাঁধগুলোর একপাশে বড় গর্ত, আরেক পাশে দাঁড়াইন নদী। এলাকাবাসী বলেছেন, ‘বাঁধের মাটি এখনই ধসে নদীতে পড়া শুরু হয়েছে, বৃষ্টি হলে এই বাঁধ টিকবে কি-না, এই নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, ‘এই বাঁধগুলো তৈরি’র সময় মাটি নদীর পাড় থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য বলা হয়েছিল। পিআইসি’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির) লোকজন সেটি মানেন নি, এখন আমরা চেষ্টা করছি বাঁধ আটকানোর। তবে এই ধরনের পিআইসি’র দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
দিরাই-শাল্লা উপজেলা নিয়ে বিশাল বরাম হাওর, এই হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের মধ্যে একটি বরাম হাওরের ১৪ নম্বর প্রকল্প। একইভাবে শাল্লার বৃহৎ হাওর ভা-াবিল। এই হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ২১ নম্বর প্রকল্পের সেখানে কাজ হচ্ছে। সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা, কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলা নিয়ে ছায়ার হাওরের অবস্থান। ডুমরা খেওয়াঘাটের পাশ দিয়ে এই হাওরের ৮৮, ৮৯ ও ৯০ নম্বর প্রকল্পের বাঁধের কাজ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এই বাঁধগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখনই বাঁধের কিছু অংশে ধস শুরু হয়েছে। বৃষ্টি হলে বাঁধ টিকবে কি না, এই নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে সকলের মাঝেই।
হাওরপাড়ের হবিবপুর গ্রামের কৃষক মনোরঞ্জন দাস জানালেন, ছায়ার হাওরের ৮৮ ও ৮৯ নম্বর পিআইসি’র বাঁধ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ডুমরা খেওয়াঘাটের পাশ দিয়ে এখনই ফাটল ধরেছে।
তিনি জানালেন, বরাম হাওরের ১৪ নম্বর পিআইসি’র একদিকে দাঁড়াইন নদী, আরেকদিকে বিশাল গর্ত। ভা-ার হাওরের ২১ নম্বর পিআইসিতেও একই অবস্থা। বাঁধের দুই দিকেই মাটি ধসছে, এই বাঁধ পরিকল্পিতভাবে না করলে ধসে পড়া’র আশঙ্কা রয়েছে।
হাওরপাড়ের আনন্দপুরের নিশিকান্ত দাস বলেন, ছায়ার হাওরের ৮৮, ৮৯ ও ৯০ নম্বর প্রকল্পের বাঁধের কাজ ১৫০ থেকে ২০০ ফুট পশ্চিম দিকে করলে ভাল হতো। এখন এটি সম্ভব নয়। এখন শক্তভাবে বাঁধের কাজ করতে হবে, বাঁধ যাতে না ধসে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। না হয় দুশ্চিন্তা থাকবে ৪ উপজেলার কৃষকের।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী বলেন, একদিকে নদী এবং আরেকদিকে খাল থাকায় কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। উপজেলার মুক্তারপুর সেতুরপাশে ২২ হাত পানির উপরে বাঁধের কাজ হচ্ছে। এসব বাঁধ নিয়ে ঝুঁকি থাকবেই। এগুলো আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে করা প্রয়োজন, প্রাক্কলন তৈরির সময়ও ভেবে চিন্তে করা জরুরি ছিল। কয়েকটি বাঁধের পাশের গর্ত ভরাট না করলে বাঁধ টেকানো কঠিন হবে।
শাল্লা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবো’র উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ভান্ডা বিলের যে স্থান দিয়ে বাঁধ করার কথা ছিল ওই অংশ ধসে গেছে। এজন্য একটু সরিয়ে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে। ৮৮ নম্বর প্রকল্পের একপাশে যে গর্ত রয়েছে, বাঁধের কাজে যে মাটি ধরা রয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ করলে গর্ত ভরাট হয়ে যাবে। এই বাঁধে হুমকি থাকবে। বরাম হাওরের ১৪ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বাঁধের কাজও সরিয়ে করা হচ্ছে। ৮৯ ও ৯০ নম্বর প্রকল্পের কাজ ঝুঁকিমুক্ত রাখার মতোই করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পগুলো নিয়ে জেলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু’র আগে থেকেই বলা হচ্ছে নদীর পাড় ঘেষে না করার জন্য, কোন কোন পিআইসি কথা শুনেন নি। এখন সমস্যা হলে পিআইসিদের দায়িত্ব নিতে হবে। উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটিকেও এই বিষয়ে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।