ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন ভবন দ্রুত সংস্কার করুন

অবকাঠামো সংকট মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বড় অন্তরায়। তাছাড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে পাঠদানের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। স্বস্তিকর ও আকর্ষণীয় শিক্ষাক্ষেত্রের অভাবে বিদ্যালয় বিমুখতা বৃদ্ধি পায়। অথচ সারা দেশে প্রায় আট হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের মতো ভবন রয়েছে, যেগুলো অতি জরাজীর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে শিশুদের পাঠদান চলছে। ১০ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষিত বিদ্যালয়েও চলছে পাঠদান। প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের হতাশাজনক চিত্র লক্ষ করা যায় ব্যানবেইসের তথ্যে। সংস্থাটির মতে, প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয়িত অর্থের ৪ শতাংশেরও কম ব্যয় হয় অবকাঠামো উন্নয়নে। এমন বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ করতে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে নির্দেশ প্রদান সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। প্রত্যাশা থাকবে বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। অতিদ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারকাজ শুরুর কোনো বিকল্প নেই। সর্বোপরি সংস্কারকাজে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা যাবে না।
আমলে নিতে হবে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়গুলোও। সম্প্রতি ছাদের বিম ধসে শিক্ষার্থী নিহত হওয়া স্কুলভবনটি এলজিইডির নির্মিত। যেটি নির্মাণের বছরখানেকের মধ্যেই ফাটল দেখা দেয়। দেশে শুধু এলজিইডির নির্মিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০ হাজার। অথচ তাদের নির্মিত অনেক ভবনই আজ ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন নির্মাণে এমন দায়সারা কাজের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের অল্প সময়ের ব্যবধানে কেন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে? কেন তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হবে? বিষয়টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি করার কথা। তারা কেন বিষয়গুলো উপেক্ষা করছেন? ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উপনীত হওয়ার অন্যতম কারণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এমন অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না। নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে তাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তান কিংবা ভারতকে টপকে গেছে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অনুকূল পরিবেশে পাঠদানের নিমিত্ত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে সর্বতোভাবে বাধামুক্ত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা উদাসীনতার সুযোগ নেই। এদিকে জীর্ণ ভবনগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা কোথায় কীভাবে ক্লাস করবে, সে বিষয়টিও চিন্তা করা জরুরি। ভবন নির্মাণ বা সংস্কারকাজের সময় কোনোভাবেই যেন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান বিঘ্নিত না হয়, তা বিবেচনায় নিতে হবে। সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহল ইচ্ছা করলে প্রক্রিয়াটিতে গতি যোগ করা সম্ভব। শত শত শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানে কোনো ধরনের অজুহাত কিংবা দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নেই।