ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত ২০ গ্রামের মানুষের

মো: ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
রেলিং ভেঙে ব্রিজের রড বেরিয়ে গেছে। ব্রিজের উপর হালকা যানবাহন উঠলেই ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এদিকে ব্রিজের মাঝে দুই পাশ ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী ব্রিজ সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন করেছেন, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় ২০ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজের অবস্থান জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নে তেরানগর গ্রামের পাশে দুলতা নদীতে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণের আওতায় ব্রিজটি নির্মিত হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই এই ব্রিজ দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন মানুষজন। উপজেলার সদরে প্রতিদিন কৃষি জমির ফসল আনা নেওয়া, অফিস আদালতের কাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়ার জন্য এই ব্রিজটি একমাত্র ভরসা।
মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া করছেন। ব্রিজের পাশে তেরানগর গ্রামের চা দোকানদার তোতা মিয়াসহ আরও কয়েকজন জানান, ব্রিজটি দিয়ে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান কাজলচন্দ্র তালুকদার বলেন, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন রাজাপুর, গঙ্গাধরপুর, মাতারগাও, ছয়হারা, দৌলতপুর, বীনাজুরা, লালপুর, রছুলপুর, লক্ষীপুর, নাজিমনগর, উজান দৌলতপুর, ভাটি দৌলতপুর, কাশীপুর, হটামারাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও এই ব্রিজ দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যে কোন মুহুর্তে বড় দুর্ঘটনার ঘটতে পারে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্রিজটি পুন: নির্মাণের আবেদন করছি।
ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার জানান, সম্ভবত ২০০৪ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ব্রিজটি নির্মাণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ে একটি ডিওলেটার দেন। এরপর তৎকালীন সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সোহেল সাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রথম ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রডের দাম বেড়ে গেলে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। পরের বছর আরও ২২লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আ: মালেক মিয়া বলেন, তেরানগর ফোড ব্রীজটি বহু পূর্বে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে ব্রিজটি। ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্রিজ দিয়ে যানবাহন চলাচল স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। ব্রিজের উভয় পাশে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হবে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রীজটি বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।