ঝড়বৃষ্টিতে কৃষকের বুকে কাঁপন

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
শুক্রবার বিকেলে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া,ঝড়বৃষ্টি হওয়াতে বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের হাওরপাড়ের কৃষক। ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গত ৮ দিন অতিবাহিত হলেও বাঁধের কাজ শেষ হয়নি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, জেলার অন্যতম হাওর জগন্নাথপুরের সর্বৃহৎ নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় ১৫টি হাওরের বাঁধের কাজ এখনও শতভাগ শেষ হয়নি। নলুয়া হাওরের কয়েকটি প্রকল্পে বাঁধের অনেক স্থানে মাটি পড়েনি। কিছু প্রকল্পের কাজের মান ভালো হলেও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে দায়সারাভাবে।
গতকাল পর্যন্ত নলুয়া হাওরের পোল্ডার-১ এর আওতাধীন প্রকল্পের ২, ১১, ১২, ১৬ নম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কৃষকরা জানান, নলুয়া হাওরের ফসল রক্ষা একটি বাঁধ যদি পানির চাপে ভেঙে যায় তাহলে পুরো নলুয়া ও মইয়ার হাওরের ফসল পানিতে তুলতে যাবে।
এবার পানির বাড়ার শঙ্কা আছে কৃষকদের মধ্যে। এর কারন হিসেবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর পর পর হাওরে পানির চাপ থাকে। ২০১৭ সালে অকাল বন্যায় নলুয়া হাওরসহ উপজেলার সবকটি হাওরের ফসলডুবির ঘটনার স্মৃতি আজও নাড়িয়ে দেয় কৃষকদের। ফলস হারানো কৃষকদের দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে হয়েছিল। ২০১৭ সালের পর ২০১৮ ও ১৯ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না থাকায় কৃষকের গোলায় ধান উঠেছে।
এবছর পানি বৃদ্ধির সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। এর কারন মৌসুমের শুরুতেই ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এজন্য দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এরমধ্যে বাঁধের কাজও অসমাপ্ত রয়েছে।
নলুয়া হাওরের পাড়ের কৃষক নেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখনো বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। এরমধ্যে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। যে কারনে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দুই, তিন বছর পর পর হাওরের ফসল ডুবির ঘটনা ঘটে আসছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে হাওরের ডুবির ঘটনায় অসহায় জীবন যাপন করেছিলেন কৃষকরা। এবার পানি বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়াতে শঙ্কিত হাওরবাসি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম, দ্রুত অসমাপ্ত বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে। বৃষ্টিপাত শুরু হলে বিঘিœত হবে বাঁধের কাজ। অবিলম্বে কাজ শেষ না করলে কৃষকদের আধিকার আদায়ে আমরা আন্দোলনে নামব।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, এরমধ্যে বাঁধের কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোতে কাজ চলছে। তিনি জানান, এবার ৪৬টি প্রকল্পের কাজের জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ না করা হলেও আমরা আইনানুত ব্যবস্থা নেব।