ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্বপ্নের জয়- ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা

সু.খবর ডেস্ক
এই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষাতেই কেটে গেছে ম্যাচের পর ম্যাচ, ফাইনালের পর ফাইনাল। ঢাকা থেকে কলম্বো, সিংহল পাড় থেকে মরুর দুবাই- কখনও ২ রানে, কখনও বা ১ উইকেটে- শেষ ওভারে ক্রিকেটের ভাগ্যদেবতার নিষ্ঠুরতা কাঁদিয়ে গেছে প্রতিবার। বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে একটা ‘শাপ’ যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল সবসময়। দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে অবশেষে এলো সেই বহু আরাধ্যের জয়; হলো ফাইনাল-ফাঁড়ার শাপমোচন। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ- দাপটের সঙ্গে, বুক ফুলিয়ে। বৃষ্টির বাগড়া, ২৪ ওভারে ২১০ রানের চোখরাঙানির চ্যালেঞ্জ উড়ে গেল সৌম্য সরকারের বিধ্বংসী শুরু আর মোসাদ্দেক হোসেনের দাপুটে ফিনিশিংয়ে। প্রথমবারের মতো টাইগারদের উদযাপনে শোভা পেল ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা ট্রফি!
দেশের ইতিহাসে প্রথম এই শিরোপাজয়ের দিনে প্রথম প্রতিকূলতা ছিল সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি। বিশ্বকাপ-ভাবনায় ঝুঁকি না নিতে এ ম্যাচে নামেননি দলের সাইড স্ট্রেনে ভোগা সহঅধিনায়ক। তার অবর্তমানে একাদশে জায়গা ধরে রাখা মোসাদ্দেকই হয়ে গেলেন শেষ বেলার নায়ক। শেষ তিন ওভারে যখন ২৭ রান দরকার, তখন ডানহাতি এ অলরাউন্ডার ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের চার বলে হাঁকালেন ৬, ৬, ৪ এবং ৬। বাংলাদেশের তৃতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরিটি করে মাঠ ছাড়লেন তিনি ২৪ বলে ৫২ রান নিয়ে। ২ চারের সঙ্গে ছক্কার সংখ্যাই ৫টি। মোসাদ্দেকের আগে জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়ে যান বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য। দুইশোর্ধ্ব রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই চড়াও ছিলেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। অন্য পাশে তামিম অস্বস্তিতে থাকলেও একাই দলের রান টেনে নিয়ে গেছেন তিনি পঞ্চাশের ওপারে। ৫ ওভারের মধ্যে ৫১ রান ওঠার পর তামিম একটু হাত খুলতে চেয়েছেন। ডাউন দ্য উইকেটে এসে টানা দুই চার হাঁকান শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে। সর্বনাশটা হয় এর পরের বলেই। কাঁধ উঁচু বল সামনে এগিয়ে খেলতে গিয়ে মিড অনে সহজ ক্যাচ। দুই বল পর কোনো রান তোলার আগে ফিরে যান সাব্বির রহমানও। তবে সৌম্যর ব্যাট তাতে থামেনি। দলের অষ্টম ওভারে ব্যক্তিগত ২৭ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। এরপর ১২তম ওভারে যখন ৬৬ রান নিয়ে রেইফারের বলে আউট হয়ে ফিরে যান, দলের সংগ্রহ ততক্ষণে ১০৯-এ পৌঁছে গেছে। তবে সৌম্যর আউটের পরই ক্ষণিকের জন্য পথ হারায় বাংলাদেশ। পরপর আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। পঞ্চম উইকেট হিসেবে মিঠুন আউট হওয়ার সময় দলের রান ছিল ১৪৩। সেখান থেকেই অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন মাহমুদুল্লাহ-মোসাদ্দেক। রেইফারকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের মুহূর্ত এনে দেওয়া রিয়াদ অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।
এর আগে বাংলাদেশকে বড় চ্যালেঞ্জে ফেলে দেয় বৃষ্টি। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো টস জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মাশরাফি। তবে বৃষ্টি হানা দেওয়ার আগ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা দেখাতে পারেননি বোলাররা। শাই হোপ আর সুনিল অ্যামব্রিস এতটাই স্বাচ্ছন্দ্যে খেলছিলেন যে, ১৭তম ওভারেই ষষ্ঠ বোলার হিসেবে সাব্বির রহমানকে আক্রমণে আনতে হয়। ততক্ষণে ম্যালাহাইডের দ্য ভিলেজের ওপর দিয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ২০.১ ওভারের মাথায় উপায়ন্ত না পেয়ে খেলা বন্ধ করে মাঠ ছেড়ে যায় দু’দলই। ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ তখন বিনা উইকেটে ১৩১ রান। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর ফের যখন খেলা শুরু হয়, তখন উইন্ডিজের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয় উদ্বোধনী জুটির ওই অবিচ্ছিন্নতাই। বৃষ্টি-পরবর্তী খেলার দৈর্ঘ্য কমে আসে ২৪ ওভারে। বাকি ৩.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১ রান যোগ করে ১ উইকেটে ১৫২ রানে থামে উইন্ডিজ। তবে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়িয়ে যায় ২১০ রানের। সৌম্যর দারুণ শুরু আর মোসাদ্দেকের আধিপত্যময় ফিনিশিংয়ে এ লক্ষ্যই পূরণ হয়ে যায় ২২.৫ ওভারের সময়।
সূত্র : সমকাল