টাংগুয়ার হাওরে সেচ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
টাঙ্গুয়ার হাওরে সেচ দিয়ে মাছ ধরছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিদিনই মাছ ধরার কথা বলে ইজারার নামে পারমিট গ্রহণকারীরা টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন বিল সেচ করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের বাফার জোন বিলের অংশ বিয়াসখালী বিলের পারমিটের মাধ্যমে মৎস্য আহরণকারীরা সারা রাত ইঞ্জিন চালিয়ে পানি সেচ দিয়ে বিল শুকিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায়।
টাঙ্গুয়ার হাওরের ছোট-বড় প্রায় ৪২ টি বিল পারমিটে মৎস্য আহরণের উপযোগী রয়েছে তার মধ্যে ৩১টি বিল পারমিটের আওতায় এনে মৎস্য আহরণের অনুমোদন দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক । এসব জলমহাল অর্জিত আয়ের শতকরা ২৪ ভাগ সরকারী কোষাগারে জমা হয় এবং শতকরা ৭৬ ভাগ টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা হয়। সরকারের নীতিমালার আলোকে ইংরেজী জানুয়ারীর ১ম তারিখ হইতে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন শর্তে সাপেক্ষে
৩ মাসের জন্য মাছ ধরার অনুমোদন দেওয়া হয়। ইংরেজি জানুয়ারী মাসের ১ম তারিখ হইতে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির আওতাভুক্ত গ্রামের মৎস্যজীবী সদস্যদের পারমিট ক্রয়ের মাধ্যমে, মৎস্য আহরণের সুযোগ পায়।
কিন্তু মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ৩ ফুট পর্যন্ত পানি রেখে মাছ ধরার বিধান রয়েছে।
এছাড়াও ইজারা শর্তেও পানি শুকিয়ে মাছ ধরা যাবে না বলে শর্ত রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা জানায় টাংগুয়ার হাওরের বিয়াসখালী বিলের পারমিট গ্রহণকারী তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল হালিম ও তার সঙ্গীরা সরকারি শর্ত ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বিলের পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে আনুমানিক তিন লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়।
এমন সংবাদ পেয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর কমিউনিটি গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে সেচকাজের যাবতীয় সরঞ্জামাদি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায় ।
তাহিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন,বলেন, সরকারের নিয়মনীতি অমান্য করে এভাবে বিল শুকিয়ে মাছ ধরে যারা বিলের নিচে থাকা কই, মাগুর, শিং, বাইম, পুঁটি,টেংরাসহ দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় মা-মাছ ও মাছের ডিম নষ্ট করছে । তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
অভিযুক্ত আব্দুল হালিম বলেন, আমার লোকজন কেউ বিল সেচে মাছ ধরেনি। মাছ ধরার নিয়মানুযায়ী আমার লোকজন মাছ ধরছে।
তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, বিল সেচ করে মাছ ধরা যাবে না। কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।