টাকা দিলেই মিলে অতিথি পাখির মাংস

লিপসন আহমেদ
তাহিরপুর উপজেলার হোটেলগুলোতে বেশি টাকা দিলে মিলে অতিথি পাখির মাংস। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা হোটেলে খাবার খেতে গেলে বিশেষ খাবারের আইটেম হিসেবে দেখানো হয় অতিথি পাখির মাংস। শুধু তাই নয়, টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার আগে ফোন করেও এইসব পাখির মাংস অগ্রিম অর্ডার করা যায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে পর্যটকরা ঘুরে এসে ভাত খাওয়ার জন্য পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধু বান্ধব নিয়ে যখন হোটলে যান। তখন হোটেলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন খাবারের বিশেষ আইটেম হিসেবে পাখির মাংসের কথা বলেন। দাম প্রতি প্লেইট ৩০০ টাকা। যা গরু কিংবা মোরগের মাংসের প্রতি প্লেইটের দ্বিগুণের চেয়েও দাম বেশি। তাহিরপুরে ছোট বড় সব হোটেলেই টাকা বেশি দিলে মিলে অতিথি পাখির মাংস।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতকালে সাইবেরিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়। এসময় এইসব অঞ্চলে পাখিদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি হয়। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিরা প্রাণ বাচাঁতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ বিশ্বের অন্যতম রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে আসে। কিন্তু এখানে এসেও অতিথি পাখিদের শেষ রক্ষা হয় না। কিছু অসাধু মানুষ প্রতি বছর অতিথি পাখি শিকার করে। অনেকে আবার এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সব হোটেলে যদি মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচলনা করা হত তাহলে হয়ত পাখি শিকার কম হতো। একটা চক্র আছে যারা পুলিশ এবং আনসারকে হাত করে নিয়মিত পাখি শিকার করছে, যার কারণে আগের মত টাঙ্গুয়ার হাওরে এখন আর পাখি আসে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ নূর জানান, এখন আর আগের মত পাখি নেই। কারণ পাখি শিকারীরা প্রতিদিন পাখি শিকার করে ব্যাগ ভরে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে বিক্রি করে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, টাকা বেশি দিলে হোটেলে অতিথি পাখির মাংস পাওয়া যায়। আমরা স্থানীয়রা অনেকদিন যাবৎ পাখি শিকার বন্ধের জন্য আন্দোলন করছি, কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা কানে নিচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা পাখি শিকারীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হোটেল রেস্তোয়ায় পাখির মাংস বিক্রি বন্ধে আমাদের অভিযান আগেও হয়েছে, এখনও আমাদের অভিযান রয়েছে।