টিকা নিতে ঠেলাঠেলি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিতে না পারা ৫১ হাজার ২১৪ জন শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল ৯ টা থেকে জেলার নির্দিষ্ট স্কুলে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি সতীশ চন্দ্র (এসসি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টিকা কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
জেলায় মাধ্যমিকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও মাদ্রাসায় ৩৭ হাজার ৫১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র (এসসি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রম সকাল ৯ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০ টায় শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের পরে একটি রুমে ৩ টি বুথে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় বিদ্যালয়ের মাঠে দুই হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী এসে জমা হয়। এসব শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড় করাতে দেখা যায় নি। লাইনে দাড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে টিকা প্রদানের রুমে প্রবেশ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেছেন, শিক্ষা বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের মাঝে সমন্বয় না থাকার কারণে টিকা কার্যক্রম নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েছে।
হাজী আব্দুস সাত্তার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকিকুর রহমান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি সকাল সাড়ে ৮ টায়। টিকা প্রদান শুরু হয়েছে অনেক বিলম্বে। সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েই ছিলাম। বাচ্চারা না খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। টিকা নেয়ার কোনো পরিবেশ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বললেন, কেন্দ্রে এসে যে পরিবেশ দেখলাম, মনে হচ্ছে জেনে শুনে আমাদের বাচ্চাদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছি। যেরকম তারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন, সরকারি যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার কিছুই মানা হচ্ছে না। শিক্ষা অফিসারও জানেন না, কতজন শিক্ষার্থী এখানে আসবে। এতে বুঝা যায় তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।
জেলা পরিষদের সদস্য ফৌজীআরা শাম্মী বললেন, কেন্দ্রে এসে দেখি হ-য-ব-র-ল অবস্থা। কেনো এরকম হচ্ছে শিক্ষা বিভাগকে জিজ্ঞেস করলে, বলে তারা জানে না। স্বাস্থ্য বিভাগকে বললে বলে আমরা কি করবো? শিক্ষা বিভাগ যেরকম চাচ্ছে সেরকমই আমরা সেবা দিচ্ছি। আমার মনে হয় সরকারের এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করা উচিৎ ছিলো।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বললেন, যারা প্রথম ডোজ পায়নি তাদেরকে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। ১৫ তারিখের ভেতরে সকল শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সকাল ৮ টার পরেই আমাদের সকল প্রস্তুতি সেরে কেন্দ্রে ছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল থেকে নার্সরা আসতে বিলম্ব করেছে। আমরা চেষ্টা করছি সুন্দরভাবে প্রথম ডোজ টিকা প্রদান কার্যক্রম শেষ করতে।