ট্রাফিক পুলিশের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ যেন যাত্রীদের কল্যাণ নিশ্চিত করে

ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি চালকদের বিশেষ কিছু প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এরকম একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার শহরের মল্লিকপুর বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে। ড্রাইভার ও চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চালক ও যাত্রীদের কল্যাণে অপরিহার্য। আমাদের দেশে যারা বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ড্রাইভ করেন তাদের অধিকাংশই কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন নি। এই চালকরা মূলত ওস্তাদের সাথে থেকে থেকে ড্রাইভিং শিখেন। এতে করে তারা ড্রাইভিং এর বহু মৌলিক বিষয় অবহিত হতে পারেন না। এরা ট্রাফিক আইনেরও বিধি বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন। মূলত আজকাল রাস্তা-ঘাটে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল জায়গায় ওভারটেক করা, গাড়ি চালনা কালে মোবাইলে কথোপকথন, চালকের নিদ্রাকাতরতা; এসব বিষয় দুর্ঘটনার পিছনে ব্যাপকভাবে দায়ী। ড্রাইভিং পেশাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি পেশা। বহু মানুষের জীবন নির্ভর করে চালকের হাতে। এমন গুরুত্বপূর্ণ পেশার একজন চালক যখন যথাযথ প্রশিক্ষণ না নিয়েই স্টিয়ারিংয়ে বসে পড়েন তখন দুর্ঘটনা ঝুঁকি না বাড়ার কোন কারণ নেই। সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে কোন নীতিমালা বা আইন-কানুনের কোন বালাই নেই। এখানে যেমন ফিটনেসবিহীন গাড়িও অবাধে রাস্তায় চলতে পারে তেমনি প্রকৃতি লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভাররাও অনায়াসে গাড়ি চালাতে পারেন। যাদের এসব দেখার কথা তারা বিভিন্ন কারণে এই জায়গায় চরম শিথিলতা দেখিয়ে থাকেন। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে সীমিত আকারে হলেও ট্রাফিক পুলিশের চালক-হেলপারদের প্রশিক্ষণ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই পেশায় নিয়োজিত সকল চালক-হেলপাররাই যেন এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এতে করে অন্তত তাদের ন্যুনতম হলেও ট্রাফিক আইন ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে কিছু ধারণা হবে। প্রশিক্ষণে যদি বিআরটিএকে অন্তর্ভূক্ত করা যায় তাহলে যান্ত্রিক বিষয়গুলো সম্পর্কেও তাদের ধারণা স্পষ্ট হবে।
ইদানীং সর্বত্রই সিলেট-সুনামগঞ্জ লাইনে বাস সার্ভিসে নানা অনিয়ম নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই। বিরতিহীন সার্ভিসের নামে যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো, যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বাসের ছাদে ঠাসাঠাসি করে মাছ ইত্যাদি পণ্য বহন এবং মাছের পানিতে যাত্রীদের সয়লাব হওয়া, অধিকাংশ গাড়ির নি¤œমান; এগুলো যাত্রীদের সাধারণ অভিযোগ। অন্যদিকে ঢাকা ও দূরপাল্লার লাইনে চালকদের বিশ্রাম না দিয়ে পুনরায় গাড়ি চালনায় নিয়োজিত করার অভিযোগটি নিঃসন্দেহে ভয়ংকর। ৮/১০ ঘণ্টা একটানা গাড়ি চালিয়ে আসার পর স্বভাবতই অন্তত আরও ৮ ঘণ্টা চালকের বিশ্রামে থাকার কথা। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, বাস সুনামগঞ্জ আসা মাত্র ওই বাসটিই ঘুরিয়ে আবারও ঢাকামুখী হয় একই চালকের দ্বারা। ট্রাফিক পুলিশের এসব বিষয়কে নিজেদের কার্যব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
আমরা জানি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সাংঘাতিকভাবে সংগঠিত এবং শক্তিশালী। এর বিপরীতে যাত্রী সাধারণ হলেন অসংগঠিত ও দুর্বল। সংগঠিত শক্তির বিপরীতে অসংগঠিত যাত্রীদের কোনও প্রতিবাদই আদৌ  কাজে আসে না। এখানে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি ট্রাফিক ও বিআরটিএ’র উপর বর্তায়। প্রশিক্ষণ ক্লাসে তারা যদি এসব বিষয়ও অধিভূক্ত করা হয় তাহলে অন্তত কাজ না হোক কথা তো হবে। কথা হলে একসময় এ থেকে পরিত্রাণের পথও বেরিয়ে আসবে।