ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

শীতের শুরুতে ঠান্ডাজনিত অসুখবিসুখের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। গতকাল প্রকাশিত ওই সংবাদ থেকে জানা যায়, ঠান্ডাজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ এতোটাই বেশি যে, সকল রোগীর জন্য বেড এমনকি ওয়ার্ডের ফ্লোর পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া যায়নি। বহু রোগীকে বাধ্য হয়ে বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। মঙ্গলবার শিশু ওয়ার্ডে ১৪০ শিশু ভর্তি ছিল যার ৪৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া ওই দিন হাসপাতালে আরও ৪০ নারী ও ৫০ পুরুষ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি ছিলেন। ডায়রিয়ার বাইরে শিশুদের নিউমেনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার পরিমাণ বেশি। নেবুলাইজারের মাধ্যমে গ্যাস নিতে শিশুদের লম্বা লাইন ছিল মঙ্গলবার সারাদিন। চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের সাধ্যমত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রেহাই পেতে অভিভাবকদের সচেতনতা অবলম্বন জরুরি। শীতের শুরু থেকে পুরো শীতকাল শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হবেন। এসব ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা হলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।
আমাদের মায়েরা, বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারের মায়েরা শিশু যতœ বিষয়ে বেশ উদাসীন। ওইসব পরিবারে সার্বিকভাবেই স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব প্রকট। তাই প্রান্তিক পরিবারের শিশু ও অন্য সদস্যরা ঠান্ডা বা ভাইরাসজনিত অসুখে বেশি আক্রান্ত হন। আমাদের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা যদিও সর্বত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে কিছুটা কাজ করে থাকেন, কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর তুলনায় এই কাজ নিতান্তই অপ্রতুল। এক্ষেত্রে আমাদের কমিউনিটি বেইসগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে তৃণমূলে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো কিছুটা সহজতর হত বলেই আমরা মনে করি। প্রতিটি মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, শিক্ষার্থীরা যদি এই কাজে সম্পৃক্ত হন তাহলে অন্তত সাধারণ স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়গুলো সকলকে বুঝানো সম্ভব। এজন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এক ধরনের জাগরণ দরকার। যে জাগরণ দেশের প্রতিটি মানুষকে ছুঁয়ে যাবে। প্রতিটি মানুষ এইসব সামাজিক কর্মকা-কে নিজেদের কর্তব্য মনে করতে পারবেন। সকল কাজে ব্যাপক গণসম্পৃক্তি ঘটনানো সম্ভব হলে যেকোন কঠিন সমস্যারই সহজ সমাধান বের করে ফেলা সম্ভব। আমরা ওই ধরনের একটি জাগরণের কামনা করি।
যাহোক, শীতের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের তাঁদের সাধ্যমত এসময় শিশু ও বৃদ্ধদের কীভাবে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব সেই সচেতনতা বাড়াতে তৃণমূলে কাজ করার আহ্বান জানাই। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সে যেকোন পর্যায়েরই হোক না কেন, ঠান্ডাজনিত রোেগের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দানের মত করে সক্ষম অবস্থায় তৈরি হোক এও আমাদের কাম্য। প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেবুলাইজার মেশিন ও এর গ্যাস মজুদ রাখতে হবে। কেউ যাতে চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে ফিরে না যান সেটি নিশ্চিত করতে হবে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
কমিউনিটি লিডার হিসাবে বিবেচিত পেশাজীবী ও কর্মজীবীসহ সকল সচেতন মহলের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা যার যার সুবিধামত জায়গায় মানুষজনকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ধারণা দিন। দেখবেন আপনাদের সামান্য একটু ভাল কাজের ফলে অনেক মানুষ অহেতুক রোগযন্ত্রণা ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে। ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।