ডলুরাকে আগে স্থলবন্দর ঘোষণা করতে হবে

প্রস্তাবিত ডলুরা শুল্কবন্দর এলাকা পরিদর্শন করছেন কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিবছর একটি সার্কুলার জারি করে, সেখানে দেশের যত শুল্কস্টেশন চালু থাকে বা যেগুলো ঘোষিত হয় সেগুলোর তালিকা বের হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে যে তালিকা প্রকাশ হয়, সেখানে সুনামগঞ্জের ডলুরার নাম নেই। ডলুরাকে আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক স্থলবন্দর ঘোষণা করতে হবে। এরপর স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এখানে স্থাপনা তৈরি করবে, পাশাপাশি স্কেল নির্মাণ করতে হবে ওজন করার জন্য। ইমিগ্রেসন সহ বন্দর করতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে ইমিগ্রেসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের কাজ আছে, যা একসঙ্গে মিলে করতে হবে।
সোমবার বিকালে সুনামগঞ্জের ডলুরায় প্রস্তাবিত শুল্কবন্দর এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন কাস্টমস বিভাগের এই কর্মকর্তা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট কাস্টমস বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন পাহলোয়ান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শান্ত নূর, মনজুরুল আমিন প্রমুখ।
সিলেট কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরী জানান, কাস্টমস বিভাগ শুল্কবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পাঠানোর পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে পূর্ণাঙ্গ শুল্কবন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু’র নির্দেশ দেবেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান যখন র্ছিলেন তখন তিনি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং এখানকার সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ সহ ডলুরায় সভা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ডলুরায় শুল্কস্টেশর করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের। সেই সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী সিলেট কাস্টমস অফিস থেকে ১০ একর জমি চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দিয়েছি আমরা। এই প্রক্রিয়া চলমান আছে। ১০ একর জমি পাবার পর এখানে কাস্টমসের নানা স্থাপনা গড়ে ওঠবে।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ডলুরা এলাকায় ইমিগ্রেশন সহ শুল্কবন্দর স্থাপনের দাবি বহুদিনের।
১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য ডলুরায় শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের ওই পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী শুরু করা হয় নি তখন।
২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ডলুরা এলাকায় মতবিনিময় করেছেন। সভায় তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বর্তমান মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
নজিবুর রহমান ওই সময় বলেছিলেন, ‘শুল্ক বন্দর স্থাপনের উপযোগী সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকা। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বেশকিছু কাজ হয়েছে। যেহেতু দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে আন্তরিক, তাই দ্রুত এখানে শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এরপর ডলুরা শুল্ক বন্দরের জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় থাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বেটাগাঁও মৌজার ৪৫ নম্বর জেল’র সরকারি খাস খতিয়ানের ১ নম্বর দাগের ০.৪০ একর এবং ২ নম্বর দাগের ৯.৬০ একর জমি ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ২৬ ডিসেম্বর জমির মূল্য নির্ধারণের এই প্রস্তাবনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও অবকাঠামো’র কারণে এখানে ইমিগ্রেশন সহ শুল্কবন্দর স্থাপনে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এলজিইিডি’র সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ জানালেন, সুরমার উপর হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণ করা না গেলে বড় বড় ট্রাক চলতে পারবে না। যানবাহন না চললে সড়ক কাজে আসবে না। শুল্কবন্দরও জমবে না। সুরমা নদীর এই অংশের উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা এলজিইডি’র সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্নের অপেক্ষায় আছি আমরা।