ডাকঘরে ফার্মেসি

ধর্মপাশার দেওলা শাখা ডাকঘরের একটি কক্ষে এভাবে ফার্মেসি ব্যবসা চালানো হচ্ছে
এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ডাকঘরের ভবনে দুটি কক্ষ। মূল ফটক তালাবদ্ধ। পশ্চিম পাশের কক্ষটির দক্ষিণ জানালা দিয়ে কক্ষটির ভেতরে দেখা গেলো একটি আলমিরা, একটি শোকেস, একটি টেবিল ও একটি চেয়ার রাখা আছে। নীল রঙের আলমিরা ও শোকেস দুটি এ্যালোপ্যাথিক ঔষধপত্রে ভরা। টেবিলের ওপর একটি রক্তচাপ নির্ণয়ের যন্ত্র (বিপি মেশিন) ও কিছু খাতাপত্র। দেখেই বুঝা গেলো এটি একটি ফার্মেসি। ফার্মেসিটির মালিক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওলা শাখা ডাকঘরে ফার্মেসির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই ডাকঘরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পোস্ট মাস্টার মো. নূরুজ্জামান,  ডাক পিয়ন আবদুল মোতালিব কেউই নেই সেখানে। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, পোস্ট মাস্টার নিজ কর্মস্থল থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে অবস্থান করছেন। ডাক পিয়ন সোনালী ব্যাংকের উপজেলা শাখায় কৃষি ভর্তুকির টাকা উত্তোলনের জন্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, পোস্ট মাস্টার মাঝে মধ্যে ডাকঘরে আসেন। ডাকঘরের সামনেই ডাক পিয়নের একটি মুদির দোকান। ডাক পিয়ন মুদির দোকান চালানোর পাশাপাশি তাঁর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। ডাকঘরের ভবনটি নবনির্মিত। এর উদ্বোধন হয়নি। এই ভবন নির্মাণের আগে ডাক পিয়নের বাড়িতেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মাস ছয়েক ধরে নতুন ভবনেই ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে। প্রায় দুই মাস আগে উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান শেলী পোস্ট মাস্টারের কক্ষে ফার্মেসী স্থাপন করে ব্যবসা শুরু করেছেন।
হাফিজুর রহমান শেলী দাবি করেছেন, দেওলা বাজারে তার একটি ঘর রয়েছে। সেটি জরাজীর্ণ থাকায় ডাকঘরের একটি কক্ষে তাঁর ঔষধপত্র ও আসবাবপত্র রাখা হয়েছে। এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মুঠোফোন রিসিভ না করায় দেওলা শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. নূরুজ্জামানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ধর্মপাশা উপজেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার খন্দকার শহিদুল আলম জানান, দেওলা ডাকঘর থেকে ফামের্সির ঔষধপত্র ও আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট মাস্টার তাঁকে জানিয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলার ডাকঘরের দায়িত্বে থাকা মোহনগঞ্জ উপ-বিভাগের ডাকঘর পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।